• দীর্ঘদিনের প্রেম বিয়েতে গড়ায়নি বলেই ধর্ষণের মামলা দেওয়া যায় না, পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের
    এই সময় | ২০ জুন ২০২৬
  • দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই তাকে ধর্ষণ বলে দেওয়া যায় না। সম্প্রতি একটি ধর্ষণের মামলায় এ কথা জানিয়ে দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে নিম্ন আদালতে ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও বাতিল করে দিলেন উচ্চ আদালতের বিচারপতি বিবেককুমার সিং।

    ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি অভিযোগকারিণী প্রতিবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তা হলে কোনও ভাবেই এ ক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলা হয় না। সব দিক বিবেচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, দু’জনের সম্মতিতেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু শুধুমাত্র বিয়ে হয়নি বলেই অভিযোগকারিণী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাই আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলা চালিয়ে যাওয়া কেবল সময়ের অপচয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু নয়।

    ২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অভিযোগকারিণী। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আদতে প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে তিনি প্রয়াগরাজে গিয়েছিলেন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। সেই সময়ে অভিযুক্ত যুবক তাঁকে (তরুণীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়) থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন। তার পর থেকেই দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তাঁরা। কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পরেই ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন অভিযুক্ত। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা বলতেন, তাঁকে মারধর করা হতো। আরও অভিযোগ, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকাকালীন তরুণীর একটি আপত্তিকর ভিডিয়োও তোলা হয়েছিল। যা দেখিয়ে পরবর্তী কালে তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করেছেন অভিযুক্ত।

    এই মামলায় ২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে নিম্ন আদালতে। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২১ সালে। তার পরেই ধর্ষণের মামলা খারিজের আর্জি জানিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত যুবক। শুনানিতে তরুণী আদালতে জানিয়েছিলেন, তিনি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার পরে দু’জনের মধ্যে ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল দুই পরিবারের লোকেদের উপস্থিতিতে। এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তকে বিয়েতে রাজি হতে বাধ্য করার জন্যই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তা ছাড়া, মেডিক্যাল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্নও মেলেনি। অর্থাৎ, তাঁর মারধরের অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাসকে তখনই ধর্ষণ বলে গণ্য করা হবে, যখন তা প্রমাণিত হবে যে, প্রতিশ্রুতি প্রথম থেকেই মিথ্যে ছিল। কেবল শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই মামলায় অভিযুক্তের তেমন কোনও অভিপ্রায় ছিল না বলেই মেনে নিয়েছে আদালত। বিচারপতি এ কথাও মানতে চাননি যে, পাঁচ বছরের সম্পর্কে প্রতিবারই বিয়ের প্রতিশ্রুতির পরে তরুণী শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)