• হোস্টেল বন্ধ, ভাড়া দিতে পকেট ফাঁকা পড়ুয়াদের! এবার ভাঙল ধৈর্য্যের বাঁধ
    News18 বাংলা | ২০ জুন ২০২৬
  • দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ মালদহ কলেজের আদিবাসী ছাত্রাবাস ‘জিতু হোস্টেল’। ফলে বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, পতিরাম, পাকুয়াহাট-সহ দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে আসতে বাধ্য হচ্ছেন আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীরা। যাতায়াতের অতিরিক্ত খরচ ও সময় নষ্টের কারণে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে হোস্টেলটি দ্রুত চালুর দাবিতে মালদহ কলেজ চত্বরে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হলেন আদিবাসী পড়ুয়ারা।

    আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত দুইতলা জিতু হোস্টেল দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শতাধিক আদিবাসী পড়ুয়া বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করলেও তাঁদের থাকার কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে আসতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষে আর্থিকভাবে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সভাপতি বাচ্চু মুণ্ডা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেল চালুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু চার বছর কেটে গেলেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের ভাড়া বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা চাই অবিলম্বে হোস্টেলটি চালু করা হোক।” বিষয়টি স্বীকার করেছেন মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ মানস কুমার বৈদ্য। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করে পুনরায় হোস্টেল চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যক্ষ। তিনি জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থার কারণে হোস্টেলটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে নতুন হোস্টেল নির্মাণের প্রস্তাবও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরে পাঠানো হবে।”

    জানা গিয়েছে, প্রায় ৫২ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত মালদহ কলেজে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করেন। জিতু হোস্টেল সহ ৪ টি হোস্টেল রয়েছে ক্যাম্পাসে। দূর দূরান্তের বহু ছাত্র-ছাত্রী সেই হোস্টেলে থাকেন। তবে আদিবাসী ছাত্রদের জন্য পৃথক তৈরি জিতু হোস্টেল বন্ধ থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর কবে চালু হয় জিতু হোস্টেল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)