হাঁটু সমান জলে হাবুডুবু খাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা, এক রাতের বৃষ্টিতেই ভেসে গেল শিলিগুড়ি
News18 বাংলা | ২০ জুন ২০২৬
এক রাতের টানা ভারী বৃষ্টিতেই যেন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড। পোকাইজত, সত্যজিৎ নগর-সহ একাধিক এলাকায় রাস্তা, নালা ও বাড়িঘর জলের তলায় চলে গিয়েছে। শুক্রবার সকাল গড়িয়েও বহু বাড়ির ভেতরে হাঁটু সমান জল জমে থাকতে দেখা যায়। ফলে নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রতি বর্ষাতেই জল জমার সমস্যা দেখা দেয়।
তবে এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ভয়াবহ। বাড়ির ভেতরে জল ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র, পোশাক, গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের বই-খাতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জল বাড়তে থাকায় বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি ছেড়ে রেললাইনের উঁচু অংশে উঠে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, আবার কেউ আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে পানীয় জল ও খাদ্যের সমস্যাও। স্থানীয় বাসিন্দা গীতিকা পাল বলেন, “বাড়ির ভেতরে এত জল ঢুকেছে যে রান্নাঘর পুরো ডুবে গিয়েছে। চুলায় আগুন জ্বালানোর কোনও উপায় নেই। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। কখন জল নামবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।” আরেক বাসিন্দা লক্ষ্মী সরকার জানান, “ঘরের প্রতিটি কোণায় জল। রান্নার সমস্ত জিনিসপত্র ভিজে গিয়েছে। বাড়িতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
সকাল থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রেললাইনের ধারে সময় কাটাতে হচ্ছে। প্রতি বছর এই সমস্যা হলেও এবার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।” এই দুর্যোগের মধ্যেও মানবিকতার ছবি ধরা পড়েছে এলাকায়। একদল যুবক নিজেদের উদ্যোগে চাল-ডাল সংগ্রহ করে খিচুড়ি রান্না করে জলবন্দি মানুষের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাই নালা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি না হলে ভবিষ্যতেও একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষকে।