• অশোকনগরের ONGC প্রকল্প এলাকায় তোড়জোড় শুরু, বাণিজ্যিক ভাবে তেল উত্তোলন কবে? বিধায়ক জানালেন…
    এই সময় | ২০ জুন ২০২৬
  • প্রায় আট বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের মাটির তলায় মিলেছিল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান। উত্তোলিত তেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও শুরু হয়েছে যায়। ধীরে ধীরে ONGC প্রকল্পের কাজ থিতিয়ে পড়ে। রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফের তোড়জোড় শুরু।

    দীর্ঘ কয়েক বছরের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর ফের অশোকনগরের বাইগাছি ওএনজিসি প্রকল্প এলাকা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষজন। অনেক বছর পরে রাজ্যে পালা বাদলের আবহে, আবারও ওএনজিসি কর্মীদের আনাগোনা ও কাজের কারণে এলাকার সেই নিস্তব্ধ পরিস্থিতি যেন বদলাতে শুরু করেছে। ২০১৮ সালে অশোকনগরের এই কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করে ওএনজিসি। তৎকালীন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলিত তেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

    ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি পৌঁছতে শুরু করেছে। বাইগাছি ওএনজিসি কেন্দ্র চত্বরের চারপাশে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে উঁচু নিরাপত্তা প্রাচীর। সূত্রের খবর, জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের কাজে গতি আনতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে।

    অশোকনগরের বিধায়ক ডাঃ সুময় হীরা জানান, ONGC নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার কারণ ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর সরকার হয়েছে। তার ফলে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে সেই কাজ সংগঠিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ৪৯ বছর পর এই সমন্বয় ফিরে আসছে, যা একটা সময় ছিল। তিনি বলেন, ‘এটা একটা বড় প্রকল্প, ভারতবর্ষের মানচিত্রে তথা পৃথিবীর মানচিত্রে অশোকনগর একটা বিখ্যাত জায়গা করে নিয়েছে তেলের ভাণ্ডারের জন্য। এই তেল এবং গ্যাস উত্তোলন হওয়ার সম্ভবনার প্রস্তুতি ওএনজিসি ইতিমধ্যেই নিয়েছে।’

    প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক জানান, পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। যদিও বাণিজ্যিকভাবে তেল বা গ্যাস উত্তোলন কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিললেই উৎপাদন শুরু করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

    অশোকনগরের মানুষের কাছে এই প্রকল্প শুধুমাত্র তেল বা গ্যাস উত্তোলনের বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের এক বড় সম্ভাবনা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করে এসেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকায় নতুন শিল্প, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মাঝপথে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেলেও ফের শুরু হওয়া কর্মতৎপরতা নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে এলাকার লোকজনকে।

    রিপোর্টিং: সৌমেন রায়চৌধুরী

  • Link to this news (এই সময়)