• বজবজ কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক সুকান্ত
    আজকাল | ২০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি সাফ জানান, তৃণমূল মানেই চোর এবং চোরের টাকা, আর এখন সেখানে যা চলছে তা আসলে চোরের ওপর বাটপাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুকান্ত বাবুর দাবি, আগামী দিনে আরও অনেক আসা-যাওয়া দেখা যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস দল হিসেবে আদৌ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। বিধানসভার ভেতরে সমীকরণ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, মমতা পন্থী গোষ্ঠী শোভন বাবুকে বিরোধী দলনেতা করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রতবাবুকেই সেই পদে বেছে নিয়েছেন।

    বজবজের সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে বেনজির নিশানা করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, অভিষেক ব্যানার্জির মতো 'নকল মার' খাওয়ার নাটক তিনি করেন না। তাঁর অভিযোগ, বজবজে তৃণমূলের লোকেরা এক ব্যক্তিকে মারধর করেছে এবং সেখানে ডিম নিয়ে কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। অভিষেক ব্যানার্জি কেন এত ভয় পাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, যুবরাজকে জনতার দরবারে এসে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

    আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা হুঁশিয়ারি দেন যে, পুলিশ পাশ থেকে একটু সরতেই শাসক দলের সমস্ত ‘যুবরাজ’ আর ‘পুষ্পাদের’ হাওয়া পাংচার হয়ে গেছে। পুষ্পার স্ত্রী এলাকার মহিলাদের খেপিয়ে তুলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার চক্রান্ত করেছিলেন এবং তারপরই পুলিশ নিজের কড়া রূপ দেখাতে বাধ্য হয়েছে। তৃণমূলকে সতর্ক করে সুকান্ত বাবু বলেন, বিজেপির ভদ্রতাকে যেন কেউ দুর্বলতা না ভাবেন, কারণ সময়মতো সবার খাতার হিসেব চুকানো হবে। বিজেপির আমলে এই ধরনের আইনহীনতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং সবাইকে কঠোরভাবে আইন মেনে চলতে হবে।

    পরিশেষে দেশের বাজেট ও রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দলের ইতিবাচক ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার আশ্বাস দেন, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথ ও আস্থার ওপর ভর করেই তাঁদের সরকার চলবে এবং আসন্ন বাজেট হবে সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী। দলের ‘ভরসাপত্র’-এ যে রোডম্যাপ দেওয়া আছে, সেই অনুযায়ী সমস্ত কাজ করা হবে। এর পাশাপাশি, রাজ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর পেছনে আসল অবদান কাদের ছিল, তা আজকের শিক্ষার্থীদের জানা উচিত এবং তা পাঠ্যক্রমে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
  • Link to this news (আজকাল)