• স্মার্ট মিটারের নির্দেশিকা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ জুন ২০২৬
  • স্মার্ট মিটার বসানোকে ঘিরে চলা বিতর্ক এবার পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে। সিপিএম-সমর্থিত সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি শুনানি হবে আগামী ২৩ জুন, সোমবার।

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রশাসনিক প্রধান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে দ্রুত স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশিকা জারি করে। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনের তরফে বৃহস্পতিবার রিট পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে। মামলাকারীদের তরফে সওয়াল করবেন আইনজীবী সাগরিকা গোস্বামী। মামলায় রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতের কার্যতালিকায় এটি ‘নিউ মোশন’ বা নতুন আবেদন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    আইনি পরিভাষায আবেদনটি ‘ম্যান্ডামাস’ বা ‘পরমাদেশ’-এর অধীনে করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যাতে সরকারি কর্তৃপক্ষ আইনানুগভাবে কাজ করে এবং নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখে। প্রাথমিক স্ক্রুটিনি পর্বে মামলার বিরুদ্ধে ওঠা সব আপত্তিও নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    এখন সকলের নজর ২৩ জুনের শুনানির  দিকে। আদালত স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সরকারি নীতিতে কোনও হস্তক্ষেপ করবে কি না অথবা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দেবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন স্মার্ট মিটারের বিরোধিতা করেছিলেন। তাই এখন সরকারি কর্মচারীদের উপর স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    অন্যদিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের উপর জোর করে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, স্মার্ট মিটার সত্যিই উপকারী সত্যিই উপকারী হলে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তা গ্রহণ করবে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)