শুক্রবার ৫৬তম জন্মদিন পালন করেন রাহুল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের এক ঝাঁক নেতা অমেঠির সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন সমাজ মাধ্যমে। দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে রোজগার মেলার আয়োজন করেন যুব কংগ্রেস কর্মীরা। সেখানে ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু বিতর্ক বাঁধে বারাণসীর গঙ্গার ঘাটে। কাশীর কংগ্রেস কর্মীরা রাহুলকে পরশুরাম সাজিয়ে একটি বড় কাঠামো নিয়ে আসেন।
সেই মূর্তির এক হাতে একটি কুঠার, আরেক হাতে দেশের সংবিধানের প্রতিলিপি ধরানো। বিষ্ণুর অবতার রূপে রাহুলের এই মূর্তি নৌকোয় বসিয়ে মাঝগঙ্গায় নিয়ে যাওয়ার পর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ, পূজা-প্রার্থনা হয়। মূর্তিতে গোলাপের পাপড়ি বৃষ্টি, দুধস্নান কিছু বাদ যায়নি। দুগ্ধাভিষেকের পাশাপাশি ১১ কেজি লাড্ডুর কেক কাটা হয়। স্থানীয় যুব কংগ্রেস কর্মী, নেতারা এতে দোষের কিছু দেখছেন না। জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি বিকাশ সিং সাফাই দেন, “রাহুল অন্যায়, দুর্নীতি, ক্ষমতাসীন গণতন্ত্র, সংবিধান বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছেন বলেই তাঁকে পরশুরাম হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। পরশুরাম ঠিক যেভাবে অশুভশক্তি, অত্যাচারী, অন্যায়কারীদের ধ্বংস করেছিলেন, রাহুলও ঠিক সেভাবেই সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধীদের পরাস্ত করবেন। তাছাড়া, এটা গণতান্ত্রিক দেশ। প্রত্যেকের নিজস্ব মতপ্রকাশের অধিকার আছে। আমরা নিজেদের ভাবাবেগ প্রকাশ করতেই রাহুলকে পরশুরাম রূপে তুলে ধরেছি।”
এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ বিজেপি। এটা হিন্দুধর্মের অপমান, বলেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির কটাক্ষ, রাহুলকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীর মুখ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন সুদূর অতীতের বিষয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং রাহুলকে শুভেচ্ছা জানিয়েও স্পষ্ট করেছেন, তিনি ভগবান পরশুরামকে এমন এক নেতার সঙ্গে তুলনা করে অপমান করতে পারবেন না যাঁর বিশ্বাস, ধ্যানধারণা, কার্যকলাপ দেশের মানুষ জানেন না! বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালার মন্তব্য, কংগ্রেসের কাছে গান্ধীরা হয়তো ভগবান। যেভাবে রাহুল গান্ধীকে পরশুরাম সাজানো হল, তাতে পরিষ্কার, ওরা সর্বদা হিন্দু বিশ্বাসকে আঘাত করে। হিন্দুধর্মকে অপমান করাই রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের একমাত্র পরিচয়।