১৯৪৭ সালে এখানেই হয়েছিল...পশ্চিমবঙ্গ দিবসের উদযাপন করতে তারকেশ্বরে মোদি!
News18 বাংলা | ২০ জুন ২০২৬
আজ পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করতে তারকেশ্বরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকেশ্বরের বালিগড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বাওনারপাড় এলাকায় তারকেশ্বর-বৈদ্যবাটি রোডের পাশে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে। এর পাশাপাশি দিন রাজ্যজুড়েও এই দিবস পালিত হবে।
১৯৪৭ সালে তারকেশ্বর রাজবাড়ি সংলগ্ন মাঠে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার সভাপতি ছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসাবে রাখার পক্ষে ভোটদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ওই অধিবেশন থেকেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বিধানসভায় ভোটাভুটিতে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পশ্চিমবঙ্গ আইনসভার সদস্যরা ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে ও পাকিস্তানে যোগদানের বিপক্ষে ভোট দিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ গঠন সুনিশ্চিত করেন। এই দিনটিকে শ্রদ্ধা জানাতেই আজ তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন হবে।
দুদিনের বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ এবং আগামীকাল রবিবার রাজ্যে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। বেলা সাড়ে তিনটের সময় হুগলির তারকেশ্বরের মাটি স্পর্শ করবে প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার। পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে সামনে রেখে তারকেশ্বর থেকেই কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সূচনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, রেল সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনাও আজ তারকেশ্বরের মাটি থেকে করবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রায় দশ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি PM কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার তেইশ তম কিস্তির টাকা দেওয়ার সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ কৃষক রয়েছেন যারাও কিস্তির দু-হাজার টাকা আজ থেকেই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে।
এক কথায় এক ক্লিকেই আজ তারকেশ্বরের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে মোট ১৮,৮৮০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাঠাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সহ গোটা দেশের প্রায় ৯. ৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে কিস্তির ২০০০ টাকা। এর মধ্যে এ রাজ্যের ৪৫.৩৫ লক্ষেরও বেশি কৃষক প্রায় ৯০৭ কোটি কিস্তির টাকা পাবেন। আজ, শনিবার লোকভবনে রাত্রিবাস করে রবিবার সকালে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে অংশগ্রহণ করার পর গার্ডেনরিচের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরেও বিশেষ অনুষ্ঠানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গ সফরে আসার ঠিক আগের রাতে প্রধানমন্ত্রী নিজের X পোস্টে তাঁর দু দিনের বঙ্গ সফর সম্পর্কে বিস্তারিত কর্মসূচি উল্লেখ করে লেখেন,’ আমি আগামী দু দিন, ২০ ও ২১ তারিখে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকব। ২০ জুন তারিখটি আমাদের পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই অনুষ্ঠানটি হবে হুগলি জেলার তারকেশ্বরে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংযোগ এবং পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর প্রচেষ্টার কারণে এই স্থানটি ঐতিহ্যমন্ডিত। তারকেশ্বরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করা হবে। তারকেশ্বর থেকে, পিএম-কিসান (PM-KISAN)-এর ২৩তম কিস্তি প্রদান করা হবে, যার ফলে সমগ্র ভারতের অগণিত পরিশ্রমী কৃষকরা উপকৃত হবেন। এটা অত্যন্ত আনন্দের যে, আগামীকাল কৃষি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান প্রকল্পগুলিরও সূচনা করা হবে। প্রধান মন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, ডিজিটাল কৃষি মিশনের অংশ হিসেবে এগ্রি স্ট্যাক, ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং এবং প্রধান মন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। এগুলি পশ্চিমবঙ্গের কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের উপকার করবে।’ পাশাপাশি ২১ তারিখে, কলকাতায় যোগ দিবস কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কলকাতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যোগ দিবসের কর্মসূচির পর আমি আরেকটি কর্মসূচিতে যোগ দেব যেখানে দেশীয় নকশায় নির্মিত তিনটি যুদ্ধজাহাজকে জলে ভাসানো হবে। এগুলি হলো আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয় । এগুলি আমাদের নিরাপত্তাকে আরো শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আমাদের সঙ্কল্পকেও এগুলি প্রতিফলিত করছে বলেও X এ জানান প্রধানমন্ত্রী।