গহীন অরণ্যে রোমাঞ্চকর ওয়াইল্ডলাইফ সাফারির পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বুকিং করার আগে একটু দাঁড়ান! প্রতি বছর বর্ষার মরসুমে ভারতের বিখ্যাত জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলির (Tiger Reserves) সিংহভাগই পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই ‘লকডাউন’ চলে।
প্রথম দেখায় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি অত্যন্ত মন খারাপের খবর মনে হলেও, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সাময়িক এই বিরতি অত্যন্ত জরুরি। মূলত তিনটি প্রধান কারণে বর্ষায় ভারতের জাতীয় উদ্যানগুলোতে সাফারি বন্ধ রাখা হয়।
সিংহভাগ পশুপাখির মিলনের সময় এই বর্ষাকাল। বৃষ্টির ছোঁয়ায় জঙ্গল যখন সবুজ হয়ে ওঠে, তখন পশুপাখিরা তাদের সন্তানদের বড় করার জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেয়। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে গাড়ির ইঞ্জিনের বিকট শব্দ এবং পর্যটকদের কোলাহল বন্যপ্রাণীদের চরম মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। সদ্যোজাত সন্তানদের সুরক্ষায় এবং তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অরণ্যে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
বর্ষার ভারী বৃষ্টিতে জঙ্গলের ভিতরে মাটির কাঁচা রাস্তাগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ভারী সাফারি জিপের চাকা প্রায়শই কাদায় আটকে পড়ে। গাড়ি থেকে নেমে বলপূর্বক গাড়ি টেনে তোলার উপায়ও থাকে না। তাই পর্যটকদের জন্য এটি বড় বিপদের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া উত্তরাখণ্ড বা উত্তর-পূর্ব ভারতের (যেমন কাজিরাঙ্গা) পাহাড়ি অরণ্যগুলোতে এই সময়ে আকস্মিক ধস (Landslides) এবং হড়পা বানের (Flash Floods) মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্কগুলো বন্ধ রাখা হয়।
ট্যুরিস্টদের আনাগোনা বন্ধ থাকলে বন দফতর এবং ফরেস্ট গার্ডরা অবিন্যস্ত জঙ্গল ও পরিকাঠামো মেরামতের সুযোগ পান। ভারী বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া রাস্তা পুনর্নির্মাণ করা, ভেঙে পড়া গাছ সরানো এবং চোরাশিকারীদের রুখতে জঙ্গলের ভিতরে ‘অ্যান্টি-পোচিং ক্যাম্প’ বা ওয়াচ টাওয়ারগুলোকে আরও শক্তিশালী করার কাজ এই সময়েই করা হয়। এ ছাড়া মানুষের কোলাহল না থাকায় প্রকৃতি নিজের মতো করে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়।
জঙ্গলে বর্ষার রূপ মিস করতে চান না অনেকেই। তাঁদের জন্যেও উপায় রয়েছে। জাতীয় উদ্যানের মূল অংশ বা ‘কোর জ়োন’ (Core Zones) কঠোর ভাবে বন্ধ থাকলেও, তুলনামূলক অগভীর বা বাইরের অংশ অর্থাৎ ‘বাফার জ়োন’ (Buffer Zones) বর্ষায় খোলা থাকে।