আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ক্রমশ বাড়ছে তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' নেতাদের সংখ্যা।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' নেতাদের ফের একবার কটাক্ষ করলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের কুড়িজন সাংসদ এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগদান করেছেন। অন্যদিকে, ৬০ জনের বেশি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় নতুন 'ব্লক' তৈরি করে তৃণমূল প্রতীকের দাবিদার হয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হচ্ছে আসলে বিজেপির হাত থেকে বাঁচার 'সেফটি ভাল্ব'। যে সমস্ত তৃণমূল নেতারা ভাবছেন তাঁদের আর কিছু করার নেই, তাঁরা মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ছাড়েননি। অন্যদিকে, যে সমস্ত বিদ্রোহী তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যেতে চান কিন্তু বিজেপি নিতে চায় না, তাঁদের 'বিদ্রোহী গোষ্ঠী' আখ্যা দিয়ে একটি 'সেফটি ভাল্ব' তৈরি করে দিয়েছে স্বয়ং বিজেপি।”
অধীরের কটাক্ষ, “এবার থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত হবে না, বুলডোজার চলবে না। এক কথায় বলতে গেলে তাঁরা একেবারে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে গেল।”
পাশাপাশি, প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে পিএসসি-র চেয়ারম্যান পদে বসানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। অধীর চৌধুরীর বলেন, “সিপিএম থেকে শুরু করে তৃণমূল আমলে পশ্চিমবঙ্গে একই ট্র্যাডিশন চলে আসছে, এখনও তা বজায় রইল। তৃণমূলের সময়ও 'গদ্দার' অর্থাৎ মুকুল রায় অথবা মানস ভুঁইয়াকে পিএসসি চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। আবারও বিজেপির আমলেও দেখা গেল সেই একই ট্র্যাডিশন বজায় রেখে 'গদ্দার'দের একজনকেই পিএসসির চেয়ারম্যান পদে বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সময় বদলাল, মুখ্যমন্ত্রী বদলাল কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ট্র্যাডিশন কিন্তু সেই বজায় থাকল।”
শুধু তাই নয়, ২০ জুনকে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' হিসেবে পালন করার বিজেপি সরকারের প্রচেষ্টাকেও কটাক্ষ করেন তিনি। অধীর চৌধুরীর মতে, “এখানে ইতিহাসকে বিকৃত করার একটি প্রচেষ্টা চলছে। বঙ্গভঙ্গ আমাদের কাছে একটি বেদনার বিষয়। কিন্তু সেটিকে যদি আনন্দের উৎসবে রূপান্তরিত করা হয় তাহলে সম্পূর্ণ ইতিহাসকে ভুল ব্যাখ্যা করা হবে।”
পুরনো ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ও সংসদীয় নেতা হতে পারেন, কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই।”
বর্তমান রাজ্য সরকারের দিকে প্রশ্ন তুলে অধীর চৌধুরী বলেন, “২০ জুনকে যদি আমরা পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতা দিবস বলি তাহলে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট কী বলব? তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে ইতিহাসকে বিকৃত করবেন না।”
অধীরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জেলার বিজেপি নেতা শাঁখারভ সরকার বলেন, "২০০৬ সালে অধীরবাবু যখন জেলা কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন তখন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মায়ারানী পাল, অতীশ সিনহা-র মতো কংগ্রেস প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নিজের নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন। তখন কি তিনি 'গাদ্দারি' করেছিলেন?"
তিনি বলেন ,"বাম আমলে রাজ্যের সমস্ত জেলা পরিষদ শাসক দলের দখলে থাকলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ কংগ্রেসের দখলে ছিল এবং সেই সময় প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ 'রবিনহুড' হয়ে উঠেছিলেন। তাহলে কি উনি সেই সময় 'সেফটি ভাল্ব' হিসেবে কাজ করেছিলেন?"
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, "অধীরবাবুর বক্তব্যের কোনও সারবত্তা নেই। ওঁর যখন যা মনে হয় বলে যান। এধরণের ঘটনা ঘটলে দলের তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।"