• ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হুলস্থুল কাণ্ড
    আজকাল | ২১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার শুকদেবপুর গ্রামে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। আর এই সময় ছুটে যায় বিএসএফ ও ভারতীয় বাসিন্দারা। এরপর সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যায় অনুপ্রবেশকারীরা। 

    জানা গিয়েছে, মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত শুকদেবপুর গ্রামের এই এলাকায় ১২০০ মিটার কাঁটাতার নেই। কাঁটাতারহীন এলাকার সুযোগ নিয়ে এর আগে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে বহুবার। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কাঁটাতার লাগাতে গেলে বিএসএফের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিবাদ লাগে। আর এই বিবাদের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে ভারতীয় ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার মানুষ। শনিবার সকাল থেকেও টানটান উত্তেজনা। সীমন্ত টহল দিচ্ছে বিএসএফ। গ্রামে মোতায়েন আছে পুলিশ। 

    স্থানীয় বাসিন্দা পিযুষ মণ্ডল জানান, এই এলাকায় কাঁটাতারহীন এলাকা দিয়ে ভোরবেলা প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। সীমান্তের ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার চৌকা এলাকা। সেখান থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হচ্ছিল। সেই সময় বাধা দেয় কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ান। চোরা পথে ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। বিএসএফের সঙ্গে এগিয়ে যান স্থানীয় ভারতীয় গ্রামবাসীরা। এরপরই সীমান্ত থেকে সরে যায় অনুপ্রবেশকারীরা। কিছু বাংলাদেশি এসে সীমান্তে অশান্তি করার চেষ্টা করেন। বিএসএফ রুখে দাঁড়ালে তারা কার্যত রনে ভঙ্গ দেয়। 

    এলাকার বিজেপি নেতা তারক ঘোষ বলেন, 'এই এলাকায় ১২০০ মিটার কাঁটাতার নেই। এই সরকার কাঁটাতার লাগানোর কাজ শুরু করেছে। এর আগেও এখানে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশিরা। কাঁটাতার লাগালে এই সমস্যার সমাধান হবে। আমরা কোন মতেই অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করব না।'

    বৈষ্ণবনগর বিধানসভার বিধায়ক রাজু কর্মকার বলেন, 'নতুন সরকার অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। কোনও ভাবেই অবৈধ বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না থাকতেও দেওয়া হবে না।সীমান্তে বিএসএফ সজাগ রয়েছে।' 

    মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, 'শুকদেবপুর দিয়ে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের পাঠানো হচ্ছিল। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় এসে যেভাবে গুন্ডাগিরি হামলা করেছে বাংলাকে অশান্ত করেছে।দেশজুড়ে হামলাবাজি, আতঙ্কবাদীদের কাজ বাংলাদেশিরা করছিল। বাংলাদেশিরা এই কাজ করছিল। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে সব ঘুষপেটিয়া এখানে ছিল। এখানে বিজেপির সরকার তৈরি হয়েছে। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেটা নির্দেশ দিয়েছেন সব ঘুষপেটিয়াকে পুষব্যাক করার ব্যবস্থা চলছে। যারা বাংলাদেশি ধরা পড়ছে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অমিত শাহ বারবার বলেছে এখানে কোন ঘুষপেটিয়া থাকবে না। সারা দেশে আতঙ্কবাদীদের দ্বারা সমস্ত জায়গায় হামলা চলছিল তা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলা সরকারের সহযোগিতায়। সমস্ত ঘুষপেটিয়াদের বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের যে সরকার আছে ওখানে জেহাদীর সরকার আছে। ওরা বাংলাদেশ যেতে দিচ্ছে না। এর মানে কি এখানে ঘুষপেটিয়ারা থাকবে? হামলাবাজি চলবে? এখানে সবকিছু থামানো হবে। এখান থেকে সব ঘুষপেটিয়াদের বের করে দেওয়া হবে।' 
  • Link to this news (আজকাল)