• অভাবকে হারিয়ে গুসকরার যুবক আজ সেনাবাহিনীর 'লেফটেন্যান্ট', চিরঞ্জিতের সাফল্য মন ছুঁয়ে যাবে
    News18 বাংলা | ২১ জুন ২০২৬
  • ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিনের জন্য মা হাতে তুলে দিতেন মাত্র এক টাকা। সংসারে অভাব ছিল, ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু সেই অভাব কোনও দিন স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারেনি। বরং কঠিন বাস্তবতাই আরও শক্ত করেছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার যুবক চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আজ সেই চিরঞ্জিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাবিলদার পদ থেকে উন্নীত হয়ে লেফটেন্যান্ট হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যে খুশির জোয়ার গুসকরা জুড়ে।গুসকরা শহরের ধারাপাড়া এলাকার সাধারণ পরিবারের ছেলে চিরঞ্জিত।

    বাবা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কোল্ড স্টোরেজে জেনারেটরম্যান হিসেবে কাজ করতেন। মা বকুল বন্দ্যোপাধ্যায় গৃহবধূ। সীমিত আয়ের সংসারে প্রতিটি দিনই ছিল সংগ্রামের। তবে বাবা-মা কখনও ছেলের স্বপ্ন দেখতে বাধা দেননি। গুসকরা পিপি ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন চিরঞ্জিত। কিন্তু তাঁর মনের মধ্যে তখন অন্য এক স্বপ্ন বাসা বেঁধেছে, দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন। সেই লক্ষ্যেই ২০১৫ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে হাবিলদার পদে যোগ দেন তিনি।সেনাবাহিনীর কঠোর দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন চিরঞ্জিত।

    দিনের পর দিন ডিউটির ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে সেই পরিশ্রমের ফল মেলে ২০২১ সালে। সর্বভারতীয় ইউপিএসসি পরীক্ষায় ১০৩ নম্বর র‍্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি অফিসার হওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ নেন।এরপর দেরাদূনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে গত ১৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দেন তিনি।নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে চিরঞ্জিত এখনও ফিরে যান শৈশবের দিনগুলিতে। তাঁর কথায়, “ছোটবেলায় অনেক কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু কখনও হাল ছাড়িনি। দেশের সেবায় নিজেকে আরও বড় দায়িত্বে দেখতে চেয়েছিলাম। সেই স্বপ্নই আমাকে প্রতিদিন এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে।”

    সম্প্রতি দেরাদুনে অনুষ্ঠিত পাসিং আউট প্যারেডে নতুন অফিসারদের গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিরঞ্জিতও। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল যখন তাঁর কাঁধে লেফটেন্যান্টের স্টার পরিয়ে দেন বাবা ও মা। বহু বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ আর অপেক্ষার যেন এক অনন্য স্বীকৃতি মিলেছিল সেই মুহূর্তে। পরিবারের সদস্যদের চোখে তখন আনন্দের অশ্রু।আজ চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নন। তিনি প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন সত্যি করতে বড় সম্পদের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের। গুসকরার এই যুবকের সাফল্য এখন জেলার অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)