দূরত্ব কমবে নিমেষে, বহু প্রতীক্ষিত সেতু প্রকল্পে প্রচুর টাকা বরাদ্দ! রাজ্যপালের ঘোষণায় বাঁধভাঙা উ
News18 বাংলা | ২১ জুন ২০২৬
পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে ফের জোরালো আশার সঞ্চার হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে রাজ্যপালের বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ হওয়ার পর থেকেই কালনা ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সেতু নির্মিত হলে পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কালনার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। বহু বাসিন্দা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলে দুই জেলার হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এদিকে কালনা বিধানসভার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার তাঁর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যপালের ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
দ্রুত কাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এলাকার এক জমিদাতা জানান, কয়েক বছর আগে তিনি সেতু প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “সেতুটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়ার মধ্যে দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিরও উন্নতি হবে। কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি।” উল্লেখ্য, এই সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালনা-২ ব্লকের সাহাপুর মৌজায় মাটি পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, কালনার সাতগাছিয়া পঞ্চায়েত এলাকার মোট ১৩১টি প্লটে প্রায় ৪৮ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ জমি ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি অল্প কিছু জমি সংক্রান্ত জটিলতা মিটলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা কালনাবাসী ও শান্তিপুরের মানুষ এখন সেতু নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের আশা, এই সেতু শুধু দুই জেলার ভৌগোলিক দূরত্বই কমাবে না, বরং উন্নয়ন ও যোগাযোগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।