বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার পথ দেখালেন
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের মঞ্চ থেকে ‘ডবল ইঞ্জিন’ উন্নয়নের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগের সরকারের জমানায় যে সব ক্ষেত্রে ‘অবহেলা’ হয়েছে সেটা পূরণ করার জন্য ‘সুপারফাস্ট’ গতিতে কাজ শুরু করেছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার বলেও জানালেন তিনি। আর রাজ্যবাসীকে আশ্বাস দিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে আর থেমে থাকতে হবে না। উন্নয়নের পথে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়বে রাজ্য। এখানেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলায় চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কী আছে সেই চিঠিতে? ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি রাজ্যের নয়া বিজেপি সরকারের সুশাসন, জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রের দু’হাত উজাড় করা সহায়তার রূপরেখা তুলে ধরলেন। এই সরকার পশ্চিমবঙ্গে আসার পর মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে নানা পদক্ষেপ করেছে। নতুন সরকার কেমন লাগছে? শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে এসে রাজ্যবাসীর কাছে প্রশ্ন করেন নরেন্দ্র মোদী। বাংলাতেই প্রশ্নটি ছিল, ‘পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?’
ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, নবজাগরণ এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে রাজ্যের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। ভারত যখনই কোনও নতুন ধারণার সন্ধান করেছে, পশ্চিমবঙ্গ তা যুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি চিঠিতে। একইসঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায় বাংলার উন্নয়ন এবং বিকশিত ভারত গড়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তাছাড়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নবজাগরণ এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যপূরণের কথাও উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন, ভারত যখনই নতুন চিন্তাভাবনা, নবজাগরণ, শৈল্পিক উৎকর্ষ অথবা আধ্যাত্মিক চেতনার অন্বেষণ করেছে, এই বাংলাই অতুলনীয় সৃজনশীলতায় সেই পথকে আলোকিত করেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মহাজাগরণের শুরু থেকে এই মাটি দেশকে বহু পণ্ডিত, দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী উপহার দিয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই মাটি থেকেই গর্জে উঠেছিল ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি। রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে কোটি কোটি পরিবার উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগ পাবে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সূচনা এবং ‘মা আহার’ প্রকল্পের সম্প্রসারণ প্রশাসনের এক মানবিক মুখ তুলে ধরেছে। বঞ্চনার শিকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জল জীবন মিশন এবং অতীতে আটকে থাকা পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্র প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।