ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় আমলা বিবেক আগরওয়াল। বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিরাট সাফল্যের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানালেন এআইএমআইএম-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সোশাল মিডিয়ায় হায়দরাবাদের এই সাংসদের দাবি, ভারতের আমলা এফএটিএফ-এর শীর্ষ পদে এসেছেন। এবার পাকিস্তানকে এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকাভুক্ত করা হোক।
বিশ্বজুড়ে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে এফএটিএফ। এই সংস্থার শীর্ষ পদে প্রথমবার বসেছেন কোনও ভারতীয়। দেশের এই সাফল্যের প্রেক্ষিতে এদিন সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দেন ওয়েইসি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘বিবেক আগরওয়াল প্রথম ভারতীয় হিসেবে এফএটিএফ-এর শীর্ষ পদে বসেছেন। এবার পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করা উচিত।’ পাশাপাশি পহেলগাঁও সন্ত্রাসের কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘টিআরএফ-কে রাষ্ট্রসংঘে নিষিদ্ধ তালিকায় ঢোকানো উচিত। একইসঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-কে নিষিদ্ধ করা উচিত। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে লালকেল্লায় আত্মঘাতী হামলার কথাও মনে রাখা উচিত আমাদের।’
ওয়েইসি নতুন করে পাকিস্তানকে এই তালিকাভুক্ত করার দাবি তুললেও, অতীতে সন্ত্রাসে ইন্ধনের অভিযোগে একাধিকবার এফএটিএফের ধূসর তালিকায় ঢুকেছিল পাকিস্তান। ২০১৮ সালে ইমরান খানের সময়কালে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করেছিল এফএটিএফ। যার জেরে আন্তর্জাতিক ঋণ থেকে বঞ্চিত হয় তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে (দাবি করা হয়, মার্কিন মদতে) এই তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে পাকিস্তান। এবার এই সংস্থার শীর্ষ পদে ভারতীয় আধিকারিকের অন্তর্ভুক্তিতে পাকিস্তানের ঘাড়ে খাঁড়ার ঘা পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার এফএটিএফ-এর প্যারিসের সদর দফতরে বৈঠকের শেষে ঘোষণা করা হয় এই সংস্থার সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত হবেন ভারতীয় আমলা বিবেক আগরওয়াল। সংস্থার তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বিবেক। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ব্রিটেনের জাইলস থমসন। তাঁর মেয়াদ শেষের পর এই দায়িত্বে প্রথমবারের জন্য আসছেন কোনও ভারতীয়। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিবেক আগরওয়ালকে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরের মেয়াদের জন্য এফএটিএফ-এর পরবর্তী সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।