‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না দিলে বহিষ্কার’, বৈঠকে এড়ানো বিদ্রোহী সাংসদদের কড়া চিঠি উদ্ধব সেনার
প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
দলের তরফে হুইপ জারি করা সত্ত্বেও বৈঠকে যোগ দেননি বিদ্রোহী সাংসদরা। এই ঘটনায় ৬ সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনা (ইউবিটি)। বিদ্রোহী সাংসদদের হাতে শোকজ নোটিস ধরিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি তাঁরা জবাব না দেন সেক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় পদক্ষেপ করা হবে। যার অর্থ খারিজ হতে পারে তাঁদের সাংসদ পদ।
শনিবার শিব সেনা (ইউবিটি)র মুখ্য সচেতক অনিল দেশাই বিদ্রোহী ৬ সাংসদকে শোকজ নোটিস ধরান। যেখানে বলা হয়েছে, কেন তাঁরা দলের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে হবে। যদি সাংসদরা জবাব না দেন, সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে তাঁরা দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন। এর ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। উদ্ধব সেনার যে ৬ বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে তাঁরা হলেন, নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন উদ্ধবের নেতৃত্বাধীন শিব সেনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতির সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। দিল্লিতে শিব সেনার সংসদীয় বৈঠকে সকল সাংসদকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩ জন। একসঙ্গে ৬ জনের অনুপস্থিতি বিজেপির শিব সেনায় ‘অপারেশন টাইগারের’ জল্পনা বাড়িয়ে তোলে। শিব সেনার রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, “ওই সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার যাবতীয় প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “যদি লোকসভার স্পিকার নিয়ম, আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন, তাহলে এই ব্যক্তিরা অযোগ্য ঘোষিত হবেন।”
এই ডামাডোলের মাঝেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এক বিবৃতি সামনে এসেছে। তিনি বলেন, “আগে শিব সেনা বোঝাতে হলে শিণ্ডে শিবির বলে আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হত। এখন আর কোনও শিবির অবশিষ্ট নেই। শিব সেনা এখন একটাই।” বলার অপেক্ষা রাখে না অমিত শাহের এই বার্তা কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং উদ্ধব ঠাকরে শিবিরে চলমান অস্থিরতাকে কটাক্ষ।