দিঘার সৈকতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, স্পিডবোটের আঘাতে ছিন্নভিন্ন শরীর, মৃত্যু পর্যটকের
প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
দিঘার সমুদ্রে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্পিডবোটের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক পর্যটকের। মৃত ওই যুবকের নাম শেখ বাপন (৩০)। জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে সমুদ্রে স্নান করতে নেমেছিলেন ওই যুবক। সেই সময় একটি স্পিডবোট অতর্কিতেই ওই যুবককে ধাক্কা মারে। স্পিডবোটের ধারালো ফ্যানের আঘাতে একেবারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় তাঁর শরীর। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর স্পিডবোটের চালক আহত যুবককে উদ্ধার না করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চালক ও স্পিডবোটের মালিক পলাতক। তাঁদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহান্তে বন্ধুদের সঙ্গে দিঘায় বেড়াতে গিয়েছিলেন বছর তিরিশের যুবক শেখ বাপন। তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দা। দুপুরে সবাই মিলে সমুদ্র স্নানে নেমেছিলেন। অন্যান্য পর্যটকদের সঙ্গেই সমুদ্র স্নানে মেতেছিলেন বাপন। অভিযোগ, সমুদ্রে স্নান করার সময় ওই স্পিডবোটটি একেবারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকটিকে ধাক্কা মারে। স্পিডবোট বোটের ধারালো ফ্যানের আঘাতে যুবকের শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়। মুহূর্তে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। সেই সময় স্নানে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে একেবারে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আর সেই সুযোগে বোট নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। পরে স্থানীয় মানুষজনই ওই যুবককে দ্রুত উদ্ধার করে দ্রুত দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসকরা শেখ বাপনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বলে রাখা প্রয়োজন, কয়েকবছর আগে মন্দারমণিতে প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক পর্যটকের। একটি হাইরাইজ ল্যাম্প পোস্টে প্যারশুট আটকে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই সময়েই সমুদ্র সৈকতে চলা বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস, প্যারাগ্লাইডিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, পর্যটকদের জন্য কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা না রেখেই দিনের পর দিন বেআইনিভাবে তা চালানো হচ্ছে। ফের এদিনের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে দিঘায় পর্যটকদের সুরক্ষা। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পর্যটকদের স্নানের এলাকায় স্পিডবোট চলাচল করছে? সংশ্লিষ্ট বোটের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে ঘটনার পরেই দিঘায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।