• যোগ্যদের নথিতে অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে আবাসের টাকা, কীর্তি ফাঁস হতেই গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা
    প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
  • একজনের নথি নিয়ে অন্যজনের অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার বাড়ির টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। পুলিশের জালে অভিযুক্ত বাগদার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান উপপ্রধান অসিত মণ্ডল। একের পর এক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অসিত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে অভিযোগকারীদের অভিযোগ।

    জানা গিয়েছে, বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আবাস যোজনার বাড়ি নিয়ে একাধিকসময় প্রধান-সহ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত সরকার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ ক্ষমতার মসনদে সেই সুযোগ নেয় অভিযুক্ত উপপ্রধান অসিত মন্ডল বয়রা। অভিযোগকারীদের দাবি, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ২০১৮ সালের পর থেকে ১০০র বেশি যোগ্য উপভোক্তাদের নথি দিয়ে অযোগ্যদের আবাসের টাকা পাইয়ে মোটা কাটমানি খেয়েছে ৷ পঞ্চায়েত এলাকায় যত বাড়ি দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা কাটমানি খেয়েছে ৷

    সরকারে বদল আসতেই বেশ কয়েকজন বাসিন্দা স্থানীয় বাগদা থানায় অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শুক্রবার রাতে অসিত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। বিজেপি নেতা দেবব্রত ঢালী বলেন, ”অসিত মণ্ডল পঞ্চায়েতে ডাকাতি রাহাজানি চালিয়েছে। যে কোন কাজ করতে গেলে টাকা দিতে হত তাঁকে। যাদের ঘর নেই, তাঁদের নথি নিয়ে একশোর উপরে বাড়ি বড়লোকদের কাছে বিক্রি করেছে মোটা টাকার বিনিময়ে ৷ ওর পাপের প্রায়শ্চিত্ত হওয়া উচিত।” অভিযোগকারীদের একজন অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ”আমার বাড়ি নেই। আমার ভোটার, আধার এবং প্যান কার্ড সমস্ত নথিপত্র নিয়ে বয়রা গ্রামের রবীন্দ্রনাথ দাসের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে আমার ঘরটি বিক্রি করেছিল অসিত মণ্ডল৷” তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার আমার অভিযোগ গ্রহণ করেনি৷ আজ, শনিবার ধৃত ওই নেতাকে পুলিশ বনগাঁ মহকুমা আদালতে নিয়ে এলে চোর চোর স্লোগান দিতে শোনা যায় বহু মানুষকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)