জল কমতেই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু নির্মাণ, তোর্সায় ভাসল উত্তরের একাধিক এলাকা
প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
বালাসনের জলে ভেসে যাওয়া দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু মেরামতের কাজ শুরু করেছে পূর্ত দপ্তর। বৃহস্পতিবার রাতে পাহাড়-সমতলে অতিভারী বৃষ্টির জেরে জলের তোড়ে হিউম পাইপের তৈরি অস্থায়ী দুধিয়া সেতু সম্পূর্ণ জলে তলিয়ে যায়। সড়কপথে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শনিবারও পতং-পানিঘাটা হয়ে অথবা সুখিয়াপোখরি-ঘুম ঘুরে পাঙ্খাবাড়ি হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়েছে বাসিন্দাদের।
১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক স্বাভাবিক না হওয়ায় শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংয়ে চলাচল করেনি টয়ট্রেন। তবে শুক্রবার রাত থেকে দার্জিলিং পাহাড় ও তরাই এলাকার না হলেও ভুটান ও সংলগ্ন ডুয়ার্সে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। স্বভাবতই তোর্সা, রায়ডাক, সংকোশ নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। বৃষ্টির জলে ভেসেছে আলিপুরদুয়ার জেলার বারোবিসা এলাকা। সেখানে দোকান ও ঘরের ভিতরে হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়েছে। কালচিনির শান্তি কলোনি জলবন্দি হয়েছে। তোর্সার জলস্তর বেড়ে চলায় সুভাষিণী চা বাগান প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উপর দিয়ে বিস্তৃত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে৷ অনুকূল বায়ুপ্রবাহের কারণে আগামী সাতদিন উত্তরের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। দার্জিলিং পাহাড়ে শুক্রবার রাত থেকে তেমন বৃষ্টি না-হলেও সিকিম ও ভুটানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এমনিতেই বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত দার্জিলিং পাহাড়। ফের বৃষ্টি শুরু হলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে, সেই দুশ্চিন্তা রয়েছে। প্রশাসনের কর্তারাও পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে। আজ, শনিবার বালাসন নদীতে জল পরিমাণ ও স্রোত সামান্য কমেছে। ফলে পূর্ত দপ্তর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অস্থায়ী সেতু মেরামতের কাজ শুরু করেছে। মিরিক লাগোয়া পর্যটন কেন্দ্র রংবং-তাবাকোশি এদিনও বিচ্ছিন্ন। সেখানে জলের তোড়ে ভেসে যাওয়া সেতু মেরামতের কাজ চলছে।
দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধস সরানো এবং মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তিনধারিয়া, পাগলাঝোরার কাছে ধস সরানো হয়েছে। রোহিণী ও পাঙ্খাবাড়ির রাস্তা খোলা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং সংযোগকারী রোডও খোলা। পর্যটকদের যাতায়াতে এখন অবধি সমস্যা হচ্ছে না। তবে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ভুটানের অতিবৃষ্টি। ভুটানের বৃষ্টিতে উত্তাল হয়েছে তোর্সা নদী। অন্যদিকে, সিকিমে বৃষ্টিপাতের জন্য তিস্তার জলস্তর বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে জলপাইগুড়ির চাপাডাঙ্গা ও চেংমারির একাধিক এলাকা।