বছরের একমাত্র দিনে ভক্তরাই দেন ভগবানকে আশীর্বাদ, জামাই ষষ্ঠীতে জামাই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু
News18 বাংলা | ২১ জুন ২০২৬
বছরের একমাত্র দিনে ভক্তরাই দেন ভগবানকে আশীর্বাদ, নবদ্বীপে শতাব্দীপ্রাচীন বিরল প্রথার সাক্ষী অসংখ্য ভক্ত। বাংলার ঘরে ঘরে আজ জামাই ষষ্ঠীর উৎসব। শাশুড়ি-শ্বশুরের বাড়িতে জামাই বরণ, আপ্যায়ন আর মঙ্গলকামনার এই চিরাচরিত রীতি যখন সর্বত্র পালিত হচ্ছে, ঠিক তখনই নদিয়ার নবদ্বীপে দেখা যায় এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও বিরল ঐতিহ্যের।
নবদ্বীপের মহাপ্রভুপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে এদিন আরাধ্য দেবতা শ্রীশ্রী ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুই হয়ে ওঠেন ‘জামাই রাজা’। কয়েকশো বছরের এই প্রাচীন প্রথা আজও একই ভক্তি, নিষ্ঠা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পালন করে আসছেন মন্দিরের সেবাইত এবং অসংখ্য ভক্ত।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পত্নী ছিলেন শ্রীশ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী। সেই সূত্রেই বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বংশের কাছে ধামেশ্বর মহাপ্রভু ‘জামাতা’ হিসেবে পূজিত হন। তাই জামাই ষষ্ঠীর দিন ভোর থেকেই শুরু হয় বিশেষ মঙ্গল আরতি, পূজা ও নানা ধর্মীয় আচার। নতুন ধুতি-পাঞ্জাবি পরিয়ে, ফুলের মালা, চন্দন ও সুগন্ধিতে সাজিয়ে মহাসমারোহে বরণ করা হয় মহাপ্রভুকে।
এই দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং বিরল দিক হলো—সারা বছর ভক্তরা ভগবানের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেও, একমাত্র জামাই ষষ্ঠীর দিনেই ভক্তরাই উল্টে ধামেশ্বর মহাপ্রভুকে আশীর্বাদ করেন। বাড়ির জামাইকে যেমন স্নেহ, ভালোবাসা আর আন্তরিক আপ্যায়নে বরণ করা হয়, ঠিক সেইভাবেই সম্পন্ন হয় মহাপ্রভুর সেবা ও পূজা। ভক্তি আর পারিবারিক আবেগের এই অপূর্ব মেলবন্ধনই এই উৎসবকে করে তুলেছে অনন্য।
মধ্যাহ্নভোগেও থাকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জামাই আদরের আয়োজন। পঞ্চব্যঞ্জন, শাক, থোড়, মোচা, শুক্তো, নানা রকম তরকারি, ডাল, ভাজা, ছানার ধোঁকা, পনিরের ডালনা, পোস্ত-সহ একাধিক নিরামিষ পদ নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি থাকে জ্যৈষ্ঠের আম দিয়ে তৈরি আম-ক্ষীর, নবদ্বীপের বিখ্যাত দই, বিভিন্ন মিষ্টান্ন এবং ভোজনের শেষে মশলা ও সাজা পান।