এই সময়: কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেরনোর সময়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হওয়া মারমারির ঘটনায় জোড়াফুলের দুই মহিলা–সহ পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু। তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ করেছে, গোলমালের সময়ে উত্তম দাস নামে স্থানীয় এক বিজেপি নেতার হাতে ‘অস্ত্র’ ছিল। তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডলে ‘অস্ত্র’ হাতে উত্তমের ছবি–ও পোস্ট করা হয়েছে (যদিও ‘এই সময়’ ওই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি)। বিমানবন্দরের বাইরে অস্ত্রধারী ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন অভিষেকও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শনিবার এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘কলকাতা বিমানবন্দরে গত রাতে (শুক্রবার) নামার পরে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের উপস্থিতি (বিমানবন্দরের) সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।’ অভিষেক নিজেও শুক্রবারের ঘটনার একটি ভিডিয়ো এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন (‘এই সময়’ ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি)।
তৃণমূলের অভিযোগ, ওই উত্তমকে কিছু দিন আগে ধাতুর তৈরি সোনালি চিতাবাঘ হাতে নিয়ে দেখা গিয়েছিল। যদিও অস্ত্র হাতে থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন উত্তম। বিজেপির ওই নেতার বক্তব্য, ‘আমার কাছে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। যদি থাকত, তা হলে পুলিশ সেটা বাজেয়াপ্ত করত এবং আমাকে গ্রেপ্তার করত।’ তবে বিমানবন্দরে উপস্থিত বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের কাছে ডিম থাকার কথা উত্তম অস্বীকার করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তমের হাতে অস্ত্র থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে বিজেপির স্থানীয় নেতা উত্তম দাসের অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের টার্মিনালের বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও কয়েক জনের মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিয়ো ক্লিপও খতিয়ে দেখা হয়েছে। শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও অলোক চক্রবর্তী, শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, টিনা মণ্ডল ও রিমা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের শনিবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে হামলা, বেআইনি জমায়েত, পথ অবরোধ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের তিন দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
শুক্রবার রাতে অভিষেক বিমানবন্দর থেকে বেরনোর কিছুক্ষণ আগে সেখানে একদল বিজেপি কর্মী–সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন, এমনটা অভিযোগ। তাঁদের অনেকেই ডিম নিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেককে ছুড়ে মারতে— এই অভিযোগও উঠেছে। পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে ডোমেস্টিক টার্মিনালের বাইরে হাজির হন বেশ কয়েক জন তৃণমূল কর্মী–সমর্থক। বিমানবন্দর থেকে অভিষেক বেরনোর পরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়। হেলমেট উঁচিয়েও মারধর চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার জেরে টার্মিনালের বাইরে রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। আতঙ্কিত হন বিমানযাত্রীরা।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় শনিবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে বলেন, ‘বিমানবন্দরে ওই ঘটনা ঘটিয়ে অভিষেক হয়তো তাঁর আগের নিরাপত্তা ফিরে পেতে চাইছেন। কোনও অস্ত্র ছিল না। অভিষেকের লোকেরা ওখানে ছিল। তারা মারামারি করেছে। অভিষেক ও তৃণমূলকে এর দায় নিতে হবে।’ উল্টো দিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘বিজেপি সমর্থককে হাতে অস্ত্র নিয়ে দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ পদক্ষেপ করুক।’