জামাইয়ের পরকীয়ার প্রতিবাদ? রায়গঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে-শ্বাসরোধ করে ভয়াবহ খুনের অভিযোগ
আজ তক | ২১ জুন ২০২৬
Raiganj Housewife Murder News: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুন করার মারাত্মক অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বামী রঞ্জিত শীল সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গতকাল রাতে রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত বধূর মা তাপসী শীল। মায়ের দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পলাতক লোকজনদের খোঁজে সব জায়গায় জোর তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে গতকাল ওই বধূকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তারপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নৃশংস এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিথর দেহটি উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আজ শনিবার দেহটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে মৃত ওই গৃহবধূর নাম নিপা শীল যার বয়স মাত্র ২৪ বছর এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ি ছিল রায়গঞ্জ থানার রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লহন্ডা গ্রামে। পুলিশ নিপার নিথর দেহের সারা শরীরে গভীর ক্ষতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে এবং তাঁর গলার মধ্যে নখের আঁচড়ও স্পষ্ট রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জোরালো অনুমান করা হচ্ছে যে ওই বধূকে প্রথমে পৈশাচিক মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে দীর্ঘ চার বছর আগে গঙ্গারামপুর থানার নাকইড় গ্রামের বাসিন্দা নিপা শীলের সঙ্গে রায়গঞ্জ থানার লহন্ডা গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত শীলের ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে পাঁচ ভরি সোনা এবং ৫ লক্ষ টাকা নগদ ও দামি আসবাবপত্র সহ একাধিক সামগ্রী যৌতুক বাবদ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে যে এত কিছুর পরেও সম্প্রতি নিপার স্বামী রঞ্জিত শীল অন্য এক তরুণীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। রঞ্জিতের এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা নিপা জেনে ফেলতেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যাবতীয় গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ নিজের অবৈধ প্রেমের পথের কাঁটা সরাতেই নিপাকে পরিকল্পনা করে বেধড়ক মারধর দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় এবং ঘরের ফ্যানের রেলিংয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী সহ পুরো শ্বশুরবাড়ি। এই প্রসঙ্গে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃত গৃহবধূর মা তাপসী শীল বলেন যে আমার মেয়েকে পুরোপুরি পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। জামাইয়ের পরকীয়ার প্রতিবাদ করার কারণেই আমার মেয়েকে এইভাবে বেঘোরে মরতে হলো এবং আমি অভিযুক্ত জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকটি লোকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি চাই। রায়গঞ্জ থানার আইসি সুমন কল্যাণ দে সরকার এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জোর কদমে তদন্ত ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।