• বার্ধক্যে সুস্থ থাকতে ভরসা যোগব্যায়ামে: সিপি রাধাকৃষ্ণন
    এই সময় | ২১ জুন ২০২৬
  • সিপি রাধাকৃষ্ণন

    যোগ হলো এক প্রাচীন সাধনা, যা শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে সামঞ্জস্য রাখে। এর মধ্যে রয়েছে আসন, প্রাণায়াম ও ধ্যান। এই তিনটি মিলত ভাবে চর্চা করলে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক স্বচ্ছতা ও মানসিক ভারসাম্য বৃদ্ধি করে। ২০১৪–এর ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে একটি স্থিতিশীল, বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে মানুষের জীবনযাত্রার ধরন পরিবর্তনের উপরে গুরুত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছিলেন, 'যোগ হলো মন ও শরীর, চিন্তা ও কর্ম, সংযম ও পরিতৃপ্তি, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সামঞ্জস্য এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মূর্ত প্রতীক।'

    প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বছরেই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুনকে 'আন্তর্জাতিক যোগ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। ১৭৪টিরও বেশি দেশ সমর্থন করেছিল এতে। ২০১৫ থেকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্রে যোগব্যায়াম করার জন্য বিভিন্ন স্থানে সমবেত হচ্ছেন- যার ফলে আমাদের এই প্রাচীন জ্ঞান একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে।

    এ বছর প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় যোগ দিবসের কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন। 'যোগ'- শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার এক কালজয়ী সাধনা। বিশ্বাস করা হয় যে, ভারতীয় সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই যোগের যাত্রার সূচনা হয়। যোগশাস্ত্রের ঐতিহ্য অনুযায়ী, ভগবান শিবকে 'আদি যোগী' এবং 'আদি গুরু' বলা হয়। এ বছরের যোগের বিষয়বস্তু হলো 'সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগব্যায়াম। স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ও মৃত্যহার হ্রাসের ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতও এই গভীর পরিবর্তনের সাক্ষী। রাষ্ট্রপুঞ্জের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর প্রকাশিত 'ইন্ডিয়া এজিং রিপোর্ট ২০২৩' অনুযায়ী, ২০৫০–এর মধ্যে প্রতি পাঁচজন ভারতীয়ের মধ্যে প্রায় এক জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি হবে। তাই যোগব্যায়াম বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

    যোগের নীতিগুলিকে সুশৃঙ্খল ও বিধিবদ্ধ করার জন্য মহর্ষি পতঞ্জলিকে যোগের জনক ধরা হয়। পরবর্তীতে দেশের ঋষি ও মুনিগণ বিশ্বে সেই ধারা ছড়িয়ে দিয়েছেন। ধ্যান, কঠোর সাধনা ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁরা শরীর, মন ও আত্মাকে একসূত্রে বেধে পথ দেখিয়েছেন। পরে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস যোগের তিনটি মহান পথের ব্যাখ্যা করে- জ্ঞানযোগ (প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের পথ), কর্মযোগ (নিঃস্বার্থ সেবা ও সৎকর্মের পথ) এবং ভক্তিযোগ (বিশুদ্ধ প্রেম ও ভক্তির পথ)–এর শিক্ষা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে পরম সত্য উপলব্ধির এক বিন্দুতে মিলিত হয়। তাই আজ যোগ ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে।

    (লেখক - ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি)

  • Link to this news (এই সময়)