• মাসব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য বোঝাতে প্রচারে বিজেপি
    এই সময় | ২১ জুন ২০২৬
  • এই সময়: ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’–এর তাৎপর্য আগামী এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে প্রচার করবে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি জেলায় জেলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’–এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে সেমিনারের আয়োজন করা হবে বিজেপির তরফে। দলের তাত্ত্বিক নেতাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট এবং তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাসকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    এ বার ‘সঠিক ইতিহাস’ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। শনিবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন করে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকা‍ন্ত মজুমদার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সঠিক ইতিহাস জানা এবং সেই ইতিহাসকে অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বিজেপির এক রাজ্য পদাধিকারীর কথায়, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে বাঙালি হিন্দুদের কোনও হোমল্যান্ড থাকত না। পশ্চিমবঙ্গকে তৎকাসলীন পূর্ব পাকিস্তা‍নে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা তিনি কী ভাবে বানচাল করেছিলেন, সেই ইতিহাস আমরা বাংলার প্রতিটি মানুষকে জানাব।’

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে কোন দিনটিকে পালন করা হবে তা নিয়ে অতীতে বিধানসভায় আ‍লোচনা হয়েছিল। বিজেপির দাবি মতো, ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনে রাজি হয়নি তৃণমূল সরকার। রাজ্যের বিশিষ্টদেরও মতামত নিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব পক্ষের মতামত শোনার পরে তৎকালীন রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করা হবে।

    বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বিজেপির সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ২০ জুনকেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে সরকারি ভাবে উদযাপন করা হবে। সেই মতো এ দিন বিধানসভাতেও দিনটি পালিত হয় সাড়ম্বরে। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ছাড়াও তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষের মতো মন্ত্রীরা অনুষ্ঠা‍নে হাজির ছিলেন। ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’–এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, ‘১৯৪৭–এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। কেন তার এত বছর পরে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস সরকারি ভাবে পালিত হচ্ছে? কেন এত বছর হয়নি? এই প্রশ্নগুলি এই মুহূর্তে সব থেকে প্রাসঙ্গিক।’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান আরও বেশি করে বাং‍লার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও। শনিবার সল্টলেকের ইজেডসিসিতে সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা আশিস গিরির লেখা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, সাহিত্যিক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এবং বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন অধ্যাপক তথাগত রায়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ়ের অধিকর্তা স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ। ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা দেখে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই স্বরূপপ্রসাদ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনে সরকার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সভাগৃহে উপস্থিতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা আপনারা মনে নেননি, মেনে নিয়েছেন। মনে নেওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। মেনে নেওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’ শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও অবদানের প্রসঙ্গ উঠে আসে তথাগতর আলোচনায়।

    বাংলার নবজাগরণ থেকে বঙ্গভঙ্গ–বিরোধী আন্দোলন এবং দেশভাগের পরে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জীবনচর্চার কথা আলোচিত হয় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে। ‘ইন্টেলেকচুয়াল হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল ইন দ্য কনটেক্সট অফ ন্যাশনালিজ়ম’ শীর্ষক বক্তৃতায় দেশভাগের পাশাপাশি বঙ্গভঙ্গ এবং বাংলা নবজাগরণের ইতিহাস তুলে ধরেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ চেয়ার প্রফেসর অমিত দে। তিনি বলেন, ‘দেশভাগের পরে হিন্দু-মুসলিম জাতিধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই নিজেদের পশ্চিমবঙ্গবাসী এবং ভারতীয় হিসেবেই মনে করেছেন। তাঁরা কোনও দিন ভারত ছেড়ে যাননি।’ সূত্রের খবর, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমার ভেবেই খারাপ লাগছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কোনও ছবি নেই! পশ্চিমবঙ্গের আত্মপ্রকাশে যাঁর গুরুত্ব অপরিসীম।’ যদিও পরে উপাচার্য কল্লোল পাল জানান, ছবির বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    শনিবার এসএন ব্যানার্জি রোডে কলকাতা পুরসভার সদর কার্যালয়েও এই প্রথম বার এই দিনটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিলেন জোড়াসাঁকো কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, কাশীপুর–বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি, পুর–কমিশনার স্মিতা পান্ডে–সহ পুরসভার একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।

  • Link to this news (এই সময়)