এই সময়: পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশন মিলিয়ে ৩১ দিনে ৮৬ বার টান পড়েছে অ্যালার্ম চেনে। রেলের তরফে ৭২টি মামলা রুজু করা হয়েছে, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন ৫৮ জন যাত্রী।
ট্রেনযাত্রীদের অসাবধানতা এবং মানসিকতা কী ভাবে ট্রেন চলাচলকে প্রভাবিত করতে পারে, তারই অবাক করা পরিসংখ্যান দাখিল করেছে পূর্ব রেল। সংস্থা জানাচ্ছে, এ বছর মে মাসে অবৈধ ভাবে অ্যালার্ম চেন টানার ফলে পূর্ব রেলের হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল ও মালদা — চারটি ডিভিশনেই ট্রেনের মসৃণ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। কোনও জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াই, অত্যন্ত তুচ্ছ এবং বিচিত্র ব্যক্তিগত কারণে চেন টানার ফলে ১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট ৮৬টি ট্রেনকে আটকে থাকতে হয়েছে। চেন টানার ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে আসানসোল ও হাওড়া ডিভিশনে, এর পরেই রয়েছে মালদা ও শিয়ালদহ। রেল জানাচ্ছে, প্রতিবারই এমন ঘটনার পরে রেলরক্ষীরা তদন্ত করে দেখেছেন যে, কোনও প্রকৃত বিপদ ছাড়াই যাত্রীরা অত্যন্ত তুচ্ছ কারণে চেন টেনেছেন, যার ফলে দূরপাল্লার ট্রেন থমকে গিয়েছে।
পূর্ব রেল জানিয়েছে, আরপিএফ-এর লগ থেকে দেখা গিয়েছে— আসানসোল ও মালদা ডিভিশনে চার জন করে যাত্রী ট্রেনের নির্ধারিত স্টপেজের তোয়াক্কা না করে অ্যালার্ম চেন টেনেছেন শুধুমাত্র ট্রেনটি তখন তাঁদের বাড়ির কাছ দিয়ে যাচ্ছিল বলে। অন্য দিকে, আসানসোলে তিন জন ও হাওড়ায় দু’জন যাত্রী চলন্ত ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা যখন দেখেন ট্রেনটি গন্তব্য স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে, তখন তাঁরা তড়িঘড়ি চেন টানেন। ‘অসাবধানে চেনে টান পড়ার’ অজুহাত দিয়েছেন আসানসোলের আট জন এবং শিয়ালদহের দুই যাত্রী। এ ছাড়া অ্যালার্ম চেনের সঙ্গে নিজেদের ব্যাগ ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, এমন দু’জন যাত্রীও ধরা পড়েছেন আসানসোলে।
এর বাইরেও ধরা পড়ার পরে অ্যালার্ম চেন টানার একাধিক কারণ জানিয়েছেন যাত্রীরা। এর মধ্যে রয়েছেন আত্মীয়দের বিদায় জানাতে এসে কামরায় ওঠা মানুষজন। ট্রেন চলতে শুরু করার আগে তাঁরা নামতে না পারায় চেন টেনে দেন। আবার ভুল ট্রেনে উঠে পড়ার পরে চেন টেনেছেন, এমন যাত্রীও আছেন। শিয়ালদহে এক যাত্রী জানিয়েছেন, তাঁর মোবাইল ফোনটি হাত থেকে নীচে পড়ে যাওয়ায় তিনি অ্যালার্ম চেন টেনেছিলেন। আবার হাওড়ায় এক যাত্রী প্ল্যাটফর্মে নিজের লাগেজ ফেলে ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। ট্রেন ছাড়ার পরে সে কথা মনে পড়ায় তিনি চেন টেনে ট্রেন থামান। রেল জানিয়েছে, এই ভাবে চেন টানার ঘটনায় আসানসোল ডিভিশনে গড়ে ১৩ মিনিট, হাওড়ায় ১৪ মিনিট এবং মালদা ও শিয়ালদহে সর্বোচ্চ ১৭ মিনিট পর্যন্ত দেরি হয়েছে ট্রেন চলাচলে। রেল জানিয়েছে, এই উপদ্রব রুখতে আসানসোল ডিভিশন থেকে ৩৩ জনকে, হাওড়া ডিভিশন থেকে ১৩ জনকে, মালদা ডিভিশন থেকে ৮ জনকে এবং শিয়ালদহ ডিভিশন থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।