আমেদাবাদ: পায়ের ভিতর দিয়ে হাত গলিয়ে কান ধরে আছে দুই ব্যক্তি। চলতি ভাষায় যে শাস্তিকে বলে ‘মুরগি হওয়া’। দুজনের পরনেই সার্জিকাল ক্যাপ ও অস্ত্রোপচার করার পোশাক। কোনো স্কুল নয়, এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে গুজরাতের ভাবনগর মেডিকেল কলেজে। ওই দুই ব্যক্তিই জুনিয়র ডাক্তার। স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছেন। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে তাঁদের ‘মুরগি’ হতে বাধ্য করেছে সিনিয়র পড়ুয়ারা। মোদি রাজ্যের মেডিকেল কলেজে এমনই ভয়ঙ্কর র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠল। দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর ডাক্তারির পড়ুয়াদের উপর র্যাগিং, মানসিক অত্যাচার ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জুনিয়র ডাক্তারদের কান ধরে মুরগি হওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত অর্থোপেডিক বিভাগের ১৩ জন প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ জন সিনিয়র পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করেছে গুজরাত সরকারও। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসেরিয়া বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।
প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তরের পড়ুয়াদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ট্রমা সেন্টারে টানা ডিউটি করতে বাধ্য করা হত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও খেতে দেওয়াও হত না তাঁদের। কয়েকজন পড়ুয়ার দাবি, এক্স-রে বিভাগে কাজ করার সময় রশ্মি থেকে বাঁচতে ‘লিড অ্যাপ্রন’ পরতে হয়। সিনিয়র পড়ুয়ারা সেই অ্যাপ্রনও তাঁদের পরতে দেয়নি। তার সঙ্গে সর্বক্ষণ মানসিক অত্যাচার তো ছিলই। কোনো ভুল করলে ৫০০ থেকে ১ হাজার বার ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি লেখা ছিল রুটিন বিষয়।
তবে, এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালেও এক সিনিয়র পড়ুয়ার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালেও একই ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের ডিন ডাঃ চিন্ময় শাহ জানিয়েছেন, অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটিকে সব অভিযোগ খুঁটিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করা হবে।