প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে খুশি তারকেশ্বরবাসী
বর্তমান | ২১ জুন ২০২৬
অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর বালিগড়ি-১ পঞ্চায়েতের বাওনার পাড় এলাকায় তিন মঞ্চে জমজমাট ছিল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠান। মূল মঞ্চের দু’পাশে দুটি মঞ্চে থেকে বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা ছিল। লোকসংগীত, ছৌ নাচ, রায়বেশে নৃত্য, বাউল গান, শ্রীখোল বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ। বহু দর্শকের হাতেই ছিল তারকনাথের ছবি। অনেকে আবার ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাতে আঁকা ছবি এনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন।
শনিবার এক ঝলক প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য হেলিপ্যাডের চারিদিকে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে এসেছিলেন বাবা-মায়েরা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে হেলিপ্যাডের আরও কাছের যাওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। সেনাবাহিনীর জওয়ানদের ধমকে কাজ হয়নি।
হেলিপ্যাড ঘেরা ছিল বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে। সেই ব্যারিকেডের কাছে চলে যান অনেকেই।
চপারের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন প্রধানমন্ত্রী। চারিদিক
থেকে আওয়াজ ওঠে মোদি মোদি। প্রধানমন্ত্রীর চপার যখন নামছে তখনও মাঠের পাশে ছিল বাসের লম্বা লাইন। কখন বাস থেকে নেমে
মাঠে যাওয়া যায়, বাসগুলিতে থাকা বহু মানুষ সেই অপেক্ষায় ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সভা উপলক্ষ্যে পানীয় জল, শৌচালয়, স্বাস্থ্যশিবিরের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার কয়েক হাজার পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।
রাজ্যে বিজেপি নতুন সরকার গঠনের পর তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী– এই নিয়ে আনন্দে ছিলেন তারকেশ্বরবাসী। তবে তাঁদের আশা ছিল, শৈবতীর্থ তারকেশ্বরকে নতুন করে সাজাতে এই সভা থেকে কিছু ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। কাশী বিশ্বনাথ ও উজ্জ্বয়নীর মহাকাল মন্দিরের মতো তারকেশ্বর মন্দিরের জন্যও নতুন কিছু বার্তা শুনতে চাইছিলেন তাঁরা। আশা ছিল, লক্ষ লক্ষ পুন্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরির কথা এই সভা থেকে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, তারকেশ্বরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার নিয়ে আসবেন প্রধানমন্ত্রী, এটাই আশা ছিল। নিজেদের উর্বর চাষের জমি পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের এই অনুষ্ঠানের জন্য দিয়েছি। জমির উপর ৩-৪ ফুট পাথরের গুঁড়ো ফেলে উঁচু করা হয়েছে। পাথর গুঁড়োর উপর চলেছে ভারী যানবাহন। পরবর্তী সময় এই জমি কতটা চাষের উপযুক্ত থাকবে আমি জানি না। তবে ওই কৃষকদের মনে হয়েছিল, এই মাঠের সভা থেকেই নতুন দিশা দেখতে পাবে তারকেশ্বর। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই চাহিদা পূরণ হল না।