• উন্নয়নের স্বার্থে শান্তি, সৌহার্দ্য বজায় রাখুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বার্তা মোদির
    বর্তমান | ২১ জুন ২০২৬
  • রাজু চক্রবর্তী, তারকেশ্বর: ‘বিদ্যুতের গতিতে উন্নয়নের কাজ শুরু করছে বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার। আর বিকাশের মূল শর্ত হল— শান্তি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক স্থিরতা। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।’ শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঞ্চে তখন বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা ভোটে বিপুল জনাদেশ নিয়ে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা চলছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সদ্য ক্ষমতা হারানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে খানখান। জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাদের উপর চলছে নাগাড়ে আক্রমণ। ঘুষ-সিন্ডিকেট-তোলাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের ঘিরে চলছে কড়া দাওয়াই। ডিমথেরাপি থেকে অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো, এমন নানা ঘটনা সামনে এসেছে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রীর শান্তি-সৌহার্দ্য বজায় রাখার বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র তথা মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে সেই আবেদন কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার!  

    প্রধানমন্ত্রী এদিন ৩১ মিনিটের ভাষণে ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদান ও পশ্চিমবঙ্গের গৌরব ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার দায় চাপিয়েছেন কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলের ঘাড়ে। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন কংগ্রেস বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তার বিরুদ্ধে ১৯৪৩ সালে এই তারকেশ্বরের মাটি থেকেই আন্দোলন শুরু করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। হিন্দু বাঙালির এই ভূখণ্ডকে রক্ষায় তাঁর অবদানকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল।’ পাশাপাশি স্বভাবসুলভভাবে তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধেও সরব হন মোদি। কটাক্ষের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কাটমানি শেষ। কাজ শুরু হয়ে গেছে।’ রেল, সড়ক, কৃষি সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনও হয় তাঁর হাতে। মোদির ঘোষণা, এদিন থেকে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আসছেন।

    আগামী ২৩ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদান দিবস। আগামী ৬ জুলাই তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। তার প্রাক্কালে এদিন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর মঞ্চ থেকেই কলকাতায় ভারতকেশরীর ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি তৈরির 

    কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে অধিগ্রহণ করবে সরকার। সেখানে স্মৃতিসৌধ ও লাইব্রেরি বানানো হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)