• বিমানবন্দরে ধুন্ধুমার: দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার সহ ধৃত ৫, হামলাকারীদের লেলিয়ে দিয়েছিল বিজেপি, অভিযোগ অভিষেকের
    বর্তমান | ২১ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার রাতে বিমানবন্দরে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে গোলমালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে তিনজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। এরা সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী এবং তার মধ্যে একজন প্রাক্তন কাউন্সিলারও রয়েছেন। প্রসঙ্গত, দিল্লি থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিক্ষোভ দেখাতে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। পালটা জমায়েত করেছিল তৃণমূল। সেখানেই দু’পক্ষ হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে হাজির ছিল এক বিজেপি কর্মী। অভিষেকই ছিল তাঁর নিশানায়। যদিও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তৃণমূলের তরফে আগ্নেয়াস্ত্রের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

    এই পর্বেই ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের অভিযোগ, তাঁকে মেরে ফেলার  চক্রান্ত হয়েছিল। শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসেন অভিষেক। কলকাতায় অভিষেকের বিমান অবতরণের আগে বিমানবন্দর চত্বরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তম দাস নামে এক বিজেপি কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতেই পাঁচজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু। উত্তম দাস নামে ওই বিজেপি সমর্থককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তার ভিত্তিতেই ওই পাঁচজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো তুলে ধরে অভিযোগ করেছেন এই ঘটনায় বিজেপি যুক্ত। অভিষেকের দেখানো ভিডিয়োতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি এমন কিছু একটি জিনিস হাতে ধরে রেখেছেন যা বন্দুকের মতো দেখতে। অভিষেকের অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে বিজেপি এতটাই ভয় পায় যে, তারা এখন আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সশস্ত্র হামলাকারীদের লেলিয়ে দিচ্ছে। কলকাতা বিমানবন্দরের যে প্রস্থান পথে আমার পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখানে এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে মোতায়েন করা হয়েছিল। আজকের বাংলার নির্মম বাস্তবতা এটাই—এমন এক রাজ্য, যেখানে সুশাসনের জায়গা নিয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। 
  • Link to this news (বর্তমান)