২১ জুন ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশেই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। যোগাসনের সঙ্গে ধর্মের বিশেষ যোগ রয়েছে। প্রাচীন কালে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে যোগ ও ধ্যানের উপরেই ভরসা রাখতেন সাধু সন্ন্যাসীরা। এ ছাড়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও যোগাসন বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ। যোগাসন মানুষকে সুস্থ ও সুন্দর রাখে। আজ যোগ দিবসে আমরা আলোচনা করব যোগনিদ্রা নিয়ে। এটি এক ধরনের ধ্যান, যাতে মনের উপর থেকে চাপ কমে ও ঘুম ভালো হয়। মহাভারতেও যোগনিদ্রার উল্লেখ রয়েছে। এখনকার দিনেও মন শান্ত করতে যোগনিদ্রা অত্যন্ত উপকারী।
আজকের দ্রুত গতির জীবনে সবাই সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। অনেক সময় রাতে ভালো ঘুম হয় না। যোগনিদ্রা নিয়মিত করতে পারলে তা ম্যাজিকের মতো আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে। এই ধ্যান মন শান্ত করে ও মনের উপর থেকে চাপ সরায়।
যোগনিদ্রা আমাদের ক্লান্তি দূর করে। যাঁদের রাতে ভালো ঘুম হয় না, তাঁদের অবশ্যই যোগনিদ্রা অভ্যেস করা উচিত। স্ট্রেস, টেনশন থাকলেও যোগনিদ্রা করে উপকার পাওয়া যায়। মন শান্ত থাকলে আপনার শরীর ভালো থাকবে এবং চেহারাও সুন্দর হবে।
যোগনিদ্রা করা মোটেও কঠিন নয়। রাত্রিবেলা বিছানায় শুয়ে এই আসনটি অভ্যেস করা যায়। এর জন্য প্রথমে শবাসনে শুয়ে পড়ুন। সারা শরীর হালকা করে দিন। একদম মড়ার মতো চিত হয়ে শুয়ে থাকুন, একটুও নড়াচড়া করবেন না। তবে কাঠ হয়ে শোবেন না, শরীর একদম হালকা করে দিন। ধীরে ধীরে শ্বাস প্রশ্বাস নিন। এরপর প্রথমে পায়ের বুড়ো আঙুলে মনোযোগ দিন। এরপর ধীরে ধীরে নিজের মনকে শরীরের হৃদয়ে তুলে আনুন। এবার অন্য পায়ের বুড়ো আঙুলে মনোযোগ দিন, সেখান থেকে মনকে আবার হৃদয়ে তুলে আনুন। এভাবে ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে মনোযোগ দিন ও সেখান থেকে নিজের মনকে হৃদয়ে তুলে আনুন। এই ভাবে করতে থাকলে আপনার শরীর ও মন রিল্যাক্স হবে। গভীর ঘুমে ঢলে পড়বেন আপনি।
যোগনিদ্রায় থাকলে আমাদের মন শান্ত হয় এবং কল্পনাশক্তি বাড়ে। ঘুমের মধ্য পর্বত, ঝর্ণা, নদী, সমুদ্র সব ঘুরে আসা যায়। সকালে যখন উঠবেন, তখন দেখবেন সম্পূর্ণ তরতাজা এক অন্য মানুষ আপনি। আগেকার দিনে যোগনিদ্রার বলেই অন্য লোকে গমন করতে পারতেন সাধু সন্ন্যাসীরা। তবে সেই স্তরে যেতে হলে বহু বছরের সাধনার প্রয়োজন।