এই সময়: দিন কয়েকের মধ্যে চার বছরের এক শিশুর প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভুট্টার একটি ছোট্ট দানা! শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুসে আটকে গিয়ে শ্বাসযন্ত্রের একাংশকে চুপসে দিয়েছিল। এর জেরে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এত কমে গিয়েছিল যে, এক সময়ে সারা শরীর নীল হয়ে গিয়েছিল ওই শিশুর। এই জটিল পরিস্থিতিতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্রঙ্কোস্কোপি করে তাকে কার্যত নবজীবন দিলেন এনআরএসের একদল চিকিৎসক।
গত ২৫ মে ভুট্টা খাওয়ার সময়ে একটি দানা কোনও ভাবে ঢুকে যায় মালদার বাসিন্দা, ছোট্ট সাবিয়া সিদ্দিকির শ্বাসনালীতে। বিষয়টা প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি। এমনকী, দিন দশেক মামুলি কাশি ছাড়া কোনও সমস্যাও ছিল না সাবিয়ার। কিন্তু সেই কাশিই বাড়তে বাড়তে শুরু হয় প্রবল শ্বাসকষ্ট, সঙ্গে জ্বর। গত সোমবার তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হলেও শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে এনআরএসে রেফার করেন।
মঙ্গলবার যখন সে এনআরএসে পৌঁছয়, ততক্ষণে অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতিতে শরীর নীল (সায়ানোসিস) হয়ে গিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে শিশুটিকে ইনভেসিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু দেখা যায়, ভেন্টিলেটরে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন দেওয়ার পরেও রক্তে তার অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা ৮৫ শতাংশের বেশি উঠছে না। চেস্ট এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান রিপোর্টে ধরা পড়ে শ্বাসনালীতে আটকে আছে একটি ভুট্টাদানা, যে কারণে বাঁ দিকের ফুসফুস সম্পূর্ণ চুপসে গিয়েছে।
সময় নষ্ট না করে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ায় রেখে সাবিয়ার রিজিড ব্রঙ্কোস্কোপির সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সূক্ষ্ম ও অত্যন্ত জটিল ওই প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত কোনও আঘাত বা ক্ষতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে বের করে আনা যায় দানাটিকে। ইএনটি বিশেষজ্ঞ প্রণবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই চিকিৎসক দলে ছিলেন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জয়দীপ দেব ও অনুপম পাত্র এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ শেখ মিজানুর রহমান। দুই বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসকরাও ছিলেন সঙ্গে। চিকিৎসকদের দাবি, এনআরএসের ইতিহাসে এত জটিল পরিস্থিতিতে রিজিড ব্রঙ্কোস্কোপি ও ক্রায়োপ্রোব ব্যবহার বেনজির।
শিশুটি এখন বিপন্মুক্ত। বুধবার তাকে ভেন্টিলশন থেকেও বের করা হয়েছে। শনিবার ছুটিও পেয়েছে সে।