জার্মানির কাছে ৭ গোলের পর কামব্যাক, ইকুয়েডরকে আটকে ইতিহাস কুরাসাওয়ের
এই সময় | ২১ জুন ২০২৬
ব্রাজ়িলের পর যেই দলকে জার্মানির ৭-১ গোলে উড়িয়েছিল তারা কুরাসাও। বিশ্বকাপের জার্মানি ও কুরাসাওয়ের প্রথম ম্যাচের ফল দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন কুরাসাও হয়তো হেরেই এ বার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই বদলে গেল ছবিটা। সৌজন্যে গোলকিপার এলয় রুম। কেপ ভের্দের গোলকিপার ভোজ়িনহার পর এ বার নজর কাড়লেন কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুমের। তাঁর সৌজন্যেই FIFA বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট পেল কুরাসাও।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন ৩৭ বছর বয়সি গোলরক্ষক এলয় রুম। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত কুরাসাওকে এনে দেয় স্মরণীয় এক ফলাফল।
এলয় রুমের দেওয়ালে থেমে গেল ইকুয়েডর
ম্যাচ জুড়ে একচেটিয়া দখল রাখে ইকুয়েডর। তাদের দখলে বল ছিল ৭৫ শতাংশ। ২৬টিরও বেশি শট তারা গোলে নেয়, যার মধ্যে ১৫টি ছিল পোস্টে। কিন্তু রুমে একা এতগুলো শট আটকে দেন। ৩৭ বছর বয়সি গোলকিপার একাই বাঁচালেন ১৫টি শট।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এননার ভ্যালেন্সিয়ার একক প্রচেষ্টা রুখে দেন রুম। এরপর ২০ মিনিটে ফের ভ্যালেন্সিয়ার নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালো প্লাতা, কেভিন রদ্রিগেজ় এবং ভ্যালেন্সিয়ার আরও কয়েকটি কাছ থেকে নেওয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিহত করেন কুরাসাও গোলরক্ষক।
সব মিলিয়ে ম্যাচে ১৫টি সেভ করেন রুম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৯০ মিনিটের ম্যাচে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে আমেরিকার গোলকিপার টিম হাওয়ার্ডও ১৫টির বেশি সেভ করেছিলেন, যদিও সেই ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচ শেষে রুম বলেন, ‘এটি এমন একটি স্মৃতি, যা আমি সারাজীবন মনে রাখব। একজন গোলকিপারের জন্য প্রায় নিখুঁত ম্যাচ ছিল এটি। তবে আমি একা কিছু করিনি, পুরো দল মিলে এই সাফল্য অর্জন করেছি।’
প্রথম বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও
মাত্র ৪৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন এবং দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা অর্জন করল নিজেদের প্রথম পয়েন্ট। এর আগে আরও এক ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভের্দের স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম পয়েন্ট পেয়েছিল। সেখানেও ছিলেন ভোজ়িনহা। এ বার সেখানেই নাম লেখালেন রুম।
কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাট ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা প্রায় শূন্য থেকে উঠে এসেছি। ৬০ হাজার দর্শকের সামনে খেলতে নেমে এমন ফল পাওয়া গর্বের বিষয়। প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলে হারার পরও সমর্থকেরা আমাদের যেভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন, আজকের এই ফল তাদের জন্যই।’
এই ড্রয়ের ফলে ‘ই’ গ্রুপ থেকে জার্মানি গ্রুপ শীর্ষে থেকে চলে গিয়েছে পরের রাউন্ডে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট।