• International Yoga Day 2026: অ্যালঝাইমার্সের গতি কমাতে পারে যোগাভ্যাস? AIIMS-এর গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য
    এই সময় | ২১ জুন ২০২৬
  • আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা নতুন করে আলোচনায় এনেছে যোগব্যায়ামের উপকারিতা। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর গবেষকদের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত যোগাভ্যাস অ্যালঝাইমার্স রোগীদের স্মৃতিশক্তি ও মেন্টাল হেলথের অবনতি কিছুটা হলেও ধীর করতে পারে। গবেষণাটি বিশেষ ভাবে ‘Yoga for Healthy Ageing’ বা ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’-এর ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। যা ঘটনাচক্রে এই বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম বটে।

    অ্যালঝাইমার্স হলো ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ, যা ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বর্তমানে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ের কোনও উপায় নেই। তাই রোগের অগ্রগতি ধীর করার সম্ভাবনা রয়েছে এমন যে কোনও পদ্ধতি চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    AIIMS-এর গবেষণায় মৃদু অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত ১৬ জন রোগীকে ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এক ঘণ্টার তত্ত্বাবধানে যোগব্যায়াম করানো হয়। গবেষকরা যোগাভ্যাস শুরুর আগে এবং পরে তাঁদের মানসিক ক্ষমতা, বিষণ্ণতার লক্ষণ এবং অন্ত্রের জীবাণুর গঠন বিশ্লেষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, ১২ সপ্তাহ পর রোগীদের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি বিষণ্ণতা ও মানসিক অবসাদের লক্ষণও কমেছে।

    এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র ও মস্তিষ্কের পারস্পরিক সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানেন যে অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া শুধু হজমেই নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, মেজাজ এবং স্মৃতিশক্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যোগাভ্যাসের ফলে অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী কিছু ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতিও কমেছে। ফলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়, রক্তসঞ্চালন উন্নত করে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এই সব কিছুর সম্মিলিত প্রভাব অ্যালঝাইমার্স রোগীদের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এটি কোনও অলৌকিক চিকিৎসা নয় এবং প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্পও নয়। বরং ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি একটি হেল্পফূল লাইফস্টাইল হিসেবেই যোগব্যায়ামকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

    গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও এর ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বৃহত্তর পরিসরে আরও গবেষণা হলে অ্যালঝাইমার্স ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের ক্ষেত্রে যোগব্যায়ামের ভূমিকা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

    বিশ্বজুড়ে যখন বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং ডিমেনশিয়ার প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এই গবেষণা মনে করিয়ে দেয় যে সুস্থ জীবনযাপন, নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার মতো সহজ অভ্যাসও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)