• বিপদে জ্যোতিপ্রিয়? খুলবে সুটিয়া গণধর্ষণের ফাইল!
    আজকাল | ২১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের তৃণমূলের বিধায়ক থেকে সাংসদ- একের পর এক সদস্য দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গঠিত হয়েছে আলাদা ব্লক। ঐতিহাসিক এই ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছে রাজ্য তথা দেশের রাজনীতিতে। সম্প্রতি সেই তালিকায় জুড়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। এ বার তাঁর সুস্থতা কামনা করেই সুটিয়া গণধর্ষণের ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    এ দিন তিনি বলেন, "শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। আমি চাই উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।" তবে এর পরেই মন্ত্রী বলেন, "ছোট থেকেই শুনে আসছি সুটিয়া গণধর্ষণ কান্ডের কথা। ওই গ্রামকে ধর্ষণের গ্রাম বলা হত। মহিলাদের বাঁচাতে গিয়ে এবং ধর্ষণের প্রতিবাদের জন্য শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের পিছনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামও উঠে আসে। বরুণ বিশ্বাসকে কে খুন করেছে এ বার তার ফাইল খোলা হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তিও দেওয়া হবে। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেও দোষী হলে তিনিও রেহাই পাবেন না।"

    উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউটশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস গোবরডাঙা স্টেশনে নেমেছিলেন। বাইক নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। কিন্তু কী কারণে খুন? স্থানীয়রা জানান, আটের দশকের শেষ দিকে, সুটিয়ায় শুরু হয়েছিল লাগামছাড়া দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য়। এলাকায় একের পর এক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছিল। সেই অত্য়াচারের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন বরুণ।

    এলাকার মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিবাদী মঞ্চ তৈরি করে অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন বরুণ। এর পরই দুষ্কৃতীদের নজরে পড়েন তিনি। ২০০০ সালে ভয়াবহ বন্য়ার পর, এলাকায় নদী সংস্কারের জন্য় আন্দোলন শুরু করেন বরুণরা। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এর জন্য় প্রায় ৩৪ কোটি টাকার অনুমোদন আসে। সেই টাকার বড় অংশ আত্মসাৎ করেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়, এমনই অভিযোগ ওঠে। সেই বিষয়েও সরব হন বরুণ বিশ্বাস। এসবের জেরেই তাঁকে খুন হতে হয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

    এ দিন সোমবার নতুন সরকারের বাজেট পেশ নিয়েও বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। জানান, মানুষের যা প্রত্যাশা বা স্বপ্ন তা পূরণ হবে। মানুষ বিজেপির উপর ভরসা রেখেছে বলেই আজ তাঁরা ক্ষমতায়।
  • Link to this news (আজকাল)