• রবি সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বাংলায়! মৃত পাঁচ, আহত বহু
    আজকাল | ২১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সকাল থেকেই রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত। গত দু'দিনে ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। রবিবার সকালে বৃষ্টি ভেজা রাস্তাতেই ঘটে গেল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত পাঁচ, আহত একাধিক। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, ময়নাগুড়িতে রবিবার সকালে বৃষ্টি ভেজা রাস্তাতেই ঘটে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই মৃত পাঁচ।গুরুতর জখম বহু। ইতিমধ্যেই আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুরু হয়েছে চিকিৎসাও। তবে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

    জানা গিয়েছে, এ দিন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি উল্লাডাবারি এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একটি সিএনজি বাস দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে সজরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যায় বাসটি।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ৪০ জনেরও বেশি শিশু ও মহিলা-সহ বাকিদের গুরুতর জখম অবস্থায় ময়নাগুড়ি হাসপাতাল ও জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাস্থলে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী উদ্ধার কাজে নেমেছে। তবে প্রশাসন সূত্রে এখনও পর্যন্ত আহত ও নিহতদের মোট সংখ্যা জানানো হয়নি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।

    উল্লেখ্য, দু'দিন আগেই অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকা। কোথাও নদীর জলের তোড়ে ভেসে যায় অস্থায়ী সেতু। আবার কোথাও জাতীয় সড়কে ধস নেমে ব্যাহত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর জেরে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি-মিরিক সড়কপথে যাতায়াত মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।

    টানা বর্ষণের ফলে উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে কার্শিয়াং ব্লকের দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি ভেসে যায়। অন্যদিকে, মহানন্দা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ ধসে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হয়।

    কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। পাশাপাশি একটি বিশাল গাছ প্রধান সড়কের উপর উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ধস সরানো ও রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে, তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।

    জাতীয় সড়ক ১১০-র উপর নির্ভর করেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয় ট্রেন পরিষেবা পরিচালিত হয়। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুক্রবারের জন্য সমস্ত টয় ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, বালাসন নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহানন্দা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিস্তার জলস্তরও বাড়তে থাকে। দুধিয়া ও সংলগ্ন বালাসন তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যরাতে নদীর স্রোত আরও বেড়ে যাওয়ায় হিউম পাইপের উপর নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় চলে যায়। ফলে মিরিক, দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

     
  • Link to this news (আজকাল)