রাত পোহালেই রাজ্য বাজেট, পশ্চিমবঙ্গকে ৬০ হাজার কোটি বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ জুন ২০২৬
রাত পোহালেই বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পশ্চিমবঙ্গে। সেদিকে তাকিয়ে আছেন সর্বস্তরের মানুষজন। অনেক আশা রেখেছেন মানুষ নতুন সরকারের উপর। কারণ এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। কদিন আগেই বাজেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত দেখা করেছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে। বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে। আর দুদিনের সফরে বঙ্গে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যোগ দিবসে রেড রোডে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আর নয়াদিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কল্পতরু হলো নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রাজ্যকে বরাদ্দ করা হলো ৬০ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে রাজ্য বাজেটের আগে এই টাকা মেলায় বড় উপকার হবে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের। বিশেষ করে ডিএ-সহ নানা সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়বে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে পা রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলায় চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই চিঠিতে দেড় মাসের ব্যবধানে বাংলাকে কত অর্থ দেওয়া হয়েছে তাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এবার রাজ্যকে হিসাব দেওয়া হলো ৬০ হাজার কোটি টাকার।
অন্যদিকে ওই চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে সম্ভাব্য সবরকমভাবে সাহায্য করবে। জল জীবন মিশন এবং পরিকাঠামো সম্পর্কিত কাজ-সহ অতীতের আটকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। রেলের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৬০,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের যাত্রা আরও বেশি উদ্দীপনার সঙ্গে এগিয়ে যাবে। এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে! পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্প ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, এমএসএমই গুলিকে সহায়তা করা, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।’
তাছাড়া মৎস্য থেকে শুরু করে বস্ত্রশিল্প এবং পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও উন্নত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রাজ্যের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাণিজ্য এবং সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার করে তুলতে পারে। যেখানেই বিজেপি সরকারে রয়েছে, সেখানে কঠোর পরিশ্রমী কৃষকরা সর্বদা নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে থাকেন এবং আমি নিশ্চিত যে পশ্চিমবঙ্গও সেটার ব্যতিক্রম হবে না।’