এবার কালীঘাট তৃণমূল নিজেদের তহবিল বিতর্ক নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে শোকজের চিঠি দিতে চলেছে। একইসঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে আইনি পথেও হাঁটার ভাবনা শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। দলের তহবিল নিয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়ে চাপ তৈরি করেছেন অরূপ বিশ্বাস। আর তার জেরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে দল চলবে কেমন করে? উঠছে প্রশ্ন। ১২ জুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে তার আগেই ৫ জুন অরূপকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করেছে তৃণমূল। এই চিঠি দলের অনুমতি না নিয়ে দেওয়ায় অরূপ বিশ্বাসকে শোকজ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে থানায় এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল। তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ এই সংকটের জেরে কালীঘাট তৃণমূল অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস-সহ আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে বলে সূত্রের খবর। তবে দলের তহবিল নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিবাদ এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামে ‘লিওনেল মেসি ইভেন্ট’ আয়োজনে বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এবার যদি দলও তাঁর পাশ থেকে সরে যায় তাহলে অরূপের পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
অন্যদিকে দুপক্ষের তৃণমূলের মধ্যে এখন নারদ নারদ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ ইতিমধ্যেই বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ওই তহবিল থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাকি বিধায়কদের নির্বাচনী টাকা দেওয়া হয়েছিল। তখন তাঁরা কেন নিলেন? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের কয়েকশো কোটি টাকা তহবিল নিয়ে কী হবে সেটা সময় বলবে। ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দলের সম্পদ এবং দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতেই, লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। দলের টাকা নয়ছয় হলে আরও সমস্যা বাড়তে পারে।
তাছাড়া এই অ্যাকাউন্টে বেআইনি লেনদেন হয়েছে বলেও অরূপের দাবি। এই কারণে এবার অরূপ বিশ্বাসকে কড়া চিঠি দিতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের ফান্ডের টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও দল আগেই তাঁকে বহিষ্কার করেছে। এখন তহবিল বাঁচাতে তৃণমূল আইনের দ্বারস্থ হবে বলে সূত্রের খবর। এই গোটা বিতর্ক নিয়ে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘ব্যাঙ্কিংনিয়মাবলি যা রয়েছে তাতে সিজ করা হয়েছে। এটা তো আমরা সবাই বুঝতে পারছি, আন ‘অ্যাকাউন্টেড মানি’। অনৈতিকভাবে সংগৃহীত অর্থ। সেটা দিয়েই তৃণমূল এতদিন পরিচালিত হতো। ফলে এমন অ্যাকাউন্টকে নিয়ে যা যা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেগুলিই নেওয়া হবে।’