দল ছেড়ে তৃণমূল করায় জেলে ভরেছিল সিপিএম, বিজেপি আমলে ফের গ্রেপ্তার বর্ধমানের দাপুটে নেতা
প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলে জেলযাত্রাই যেন ভবিতব্য! সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তৎকালীন বাম সরকারের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। কারাবাসেও ছিলেন। পরে ছাড়া পেয়েও ঘাসফুল শিবিরের প্রতি আনুগত্য অটুট ছিল তাঁর। প্রায় ১০ বছর ধরে জোড়াফুল শিবিরের ব্লক সভাপতি পদে ছিলেন। এবার রাজ্যে ফের রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হওয়ায় একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বর্ধমানের দাপুটে তৃণমূল নেতা বামদেব মণ্ডল। রায়না-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতিকে তোলাবাজি, মারধরের মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ।
একসময়ের লাল দুর্গ বর্ধমানে দাপটের সঙ্গে সিপিএম করেছেন বামদেব। ২০০৬ সালে অর্থাৎ তৃণমূল সরকার গঠনের আগেই বাম রাজনীতি ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগী হন। তৎকালীন বাম সরকারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসে ছিলেন। জেলজীবন কাটিয়ে ফেরার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বর্ধমানের রায়না ১ নং ব্লকের সভাপতির দায়িত্ব দেন। প্রায় বছর দশেক সেই পদেই ছিলেন। ছাব্বিশে রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল শিবিরে ভাঙনের পরও নিজের পদ অটুট রাখতে সক্ষম ছিলেন বামদেব মণ্ডল।
সূত্রের খবর, বামদেব মণ্ডলের বিরুদ্ধে মারধর, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। কিন্তু তৃণমূল জমানায় দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। কিন্তু এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে বদ্ধপরিকর। অভিযুক্তদের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর তারই অংশ হিসেবে এবার বামদেব মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এনিয়ে যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব মুখ খোলেনি এখনও। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।