বৃষ্টিভেজা রাস্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ময়নাগুড়িতে, বাস-ট্রেলারের সংঘর্ষে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
সাতসকালে বৃষ্টিভেজা সকালে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে। যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেলারের সংঘর্ষে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হল ঘটনাস্থলে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। আহত অন্তত ২১ জন। তাঁদের জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ১ শিশু ও ২ মহিলা। জাতীয় সড়কের উল্লা ডাবরি ফ্লাইওভারের কাছে এই দুর্ঘটনায় বেশ কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বৃষ্টিভেজা রাস্তায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের প্রতি সমবেদনার পাশাপাশি পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, রবিবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে যাত্রীদের নিয়ে বাসটি কোচবিহারের দিকে যাচ্ছিল। ময়নাগুড়ির কাছে উল্লা ডাবরি ফ্লাইওভারের কাছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল ট্রেলারটি। এমন সময়ে পিছনে এসে ট্রেলারটিতে ধাক্কা মারে যাত্রীবাহী ওই সরকারি বাস। তার সামনের অংশটি একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই একাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। সরকারিভাবে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ২৯ জনকে আহত অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন থেকে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
বর্ষার মরশুম শুরু হতেই উত্তরবঙ্গে অঝোরধারায় চলছে বৃষ্টি। বিভিন্ন জেলা জলমগ্ন। রাস্তাঘাটের অবস্থাও তথৈবচ। রবিবার সকালের দিকে বৃষ্টি না হলেও রাতভর বর্ষণে রাস্তাঘাট ভিজে ছিল। সেই কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা উদ্ধারে হাত লাগান প্রথমে। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি জাতীয় সড়ক থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও ট্রেলারটিকে সরানোর তোড়জোড় করে। বেশ কিছুক্ষণ পর ফের যান চলাচল শুরু হয়। শুধু জলপাইগুড়িতে নয়, বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে এধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।