তোলাবাজি, দুর্নীতির পর এবার পণের দাবিতে অত্যাচার! পুত্রবধূকে রাস্তায় মারধর, পণের জন্য় চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গাইঘাটার প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী ইলা বাগচীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। রবিবার সকালে ঠাকুরনগরের বাবুপাড়া থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এদিন সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। একজন মহিলা তাঁকে চড় মারতেও যান ৷ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে নিয়ে আসে।
জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে ইলা দেবীর ছেলে রাহুল বাগচীর সঙ্গে বিয়ে হয় স্থানীয় শিমুলপুরের বাসিন্দা অর্পিতা বিশ্বাসের। রাহুল ও অর্পিতা ভালোবাসা করে বিয়ে করলেও কিছুদিন পর থেকে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ১ বছর পর থেকে অর্পিতা বাবার বাড়িতে থাকতেন। তাঁর অভিযোগ, রাহুল প্রতিদিন রাতে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে তাঁকে মারধর করতেন। শাশুড়ি ইলা পণের জন্য তাঁর উপর চাপ দিতেন। পুত্রবধূকে তিনি বলতেন, ‘আমি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, আমার কিছু করতে পারবি না।’ অর্পিতার অভিযোগ, গত ১৫ জুন ষষ্ঠীতলা এলাকায় তাঁর উপর হামলা চালান ইলা ও তাঁর অনুগামীরা। ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁকে। ঘটনার তিনদিন পরে অর্পিতা গাইঘাটা থানায় শাশুড়ি ইলা বাগচী, শ্বশুর পিনাকী বাগচী ও স্বামী রাহুল বাগচীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। রবিবার সকালে তৃণমূল নেত্রীকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইলা বাগচী গাইঘাটা ব্লকের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেত্রী। গাইঘাটার প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরে তাঁর রাজনীতিতে উত্থান হয়েছে।