বিশ্ব যোগ দিবসে ডাঙ্গায় নয়, জলে ম্যাজিক! ৭১ বছরের গোপালবাবুর ‘জল যোগা’ দেখে তাজ্জব হাওড়া
News18 বাংলা | ২১ জুন ২০২৬
: বিশ্ব যোগা দিবসে গ্রাম ঘুরে জল যোগ করেই শরীর সুস্থ রাখার বার্তা দিচ্ছেন ৭১ এর গোপল! সারা দেশ জুড়ে বিশ্ব যোগ দিবস পালিত হচ্ছে, বিশ্ব যোগ দিবস পালনে দেশের প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় হাজির হয়েছেন। এমন সময় কলকাতার যোগ সভাস্থল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে হাওড়ার গঙ্গাধরপুর গ্রামে জলে যোগা প্রদর্শন করলেন দেউলপুরের গোপাল আদক।
বিশ্ব যোগ দিবসে যখন নানা প্রান্তে মানুষকে যোগ অভ্যাসের বার্তা দেওয়া হচ্ছে ডাঙ্গায় বসে, এমন সময় গঙ্গাধরপুর গোলাবাড়ি ভারত সেবাশ্রম সংঘে যোগ অনুষ্ঠান শেষ আশ্রমের পুকুরে বিশেষ উপায়ে যোগ প্রদর্শন হয়। গভীর জলাশয়ে সাবলীল ভাবে ভেসে থেকে বিভিন্ন আসন এবং নানা ভঙ্গিমা প্রদর্শন করলেন। ৭১ বছর বয়সে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তিনি প্রদর্শন করেছেন জল যোগা। তখন ১৬-১৭ বছর বয়স পুকুরের স্নান করতে সাঁতার অভ্যাস করতে করতেই এমন কৌশল একটু একটু করে রপ্ত করে নেওয়া, জানিয়েছেন গোপালবাবু। প্রায় ৫৫ বছর ধরে বিভিন্ন জলাশয় বা পুকুর এবং নদীতে জল যোগ তিনি প্রদর্শন করেছেন। লক্ষ্য একটাই নতুন প্রজন্মকে সাঁতার শেখান এবং মানুষকে সাঁতারের অভ্যাস বজায় রাখা। সাঁতারের মধ্য দিয়ে শরীরের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সচল থাকতে পারে সেই বার্তা দিতেই স্বেচ্ছায় জলে যোগা প্রদর্শন করেন তিনি।
শহর থেকে গ্রাম এক এক করে পুকুর হারিয়ে যাচ্ছে, পুকুর অব্যবহৃত হয়ে আবর্জনা স্তূপে পরিণত হচ্ছে। পুকুরের এমন দূর অবস্থার অন্যতম কারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে অব্যবহিত পুকুর। ফলে পুনরায় স্নান অভ্যাস এবং খেলার বা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গ্রামের পুকুরগুলিতে নতুন প্রজন্মের ব্যবহার বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তাই তিনি বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলে যোগ প্রদর্শন করছেন। তাঁর এই যোগ প্রদর্শন প্রথম শুরু হয়েছিল হুগলি নদীর কলকাতার বাবুঘাট থেকে। তারপর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এভাবেই প্রদর্শন চলছে।
এ প্রসঙ্গে গোপাল বাবু জানান, দুর্ঘটনা কিংবা দুর্যোগ থেকে জীবন রক্ষা করতে প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে সাঁতার জানা অতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সুস্থ শরীর রাখতে সাঁতার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে। নিয়মিত সাঁতার অভ্যাস থাকলে শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সচল থাকে। মানুষ বাড়ির পাশের পুকুরটি ব্যবহার বা সাঁতার অভ্যাস করলে, সেই পুকুর নোংরা আবর্জনায় পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। তাই বিশ্ব যোগ দিবসে এক দিক থেকে যেমন শরীর সুস্থ রাখা জলযোগের মাধ্যমে সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা করা যেতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।