• প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথম সফরে চিনযাত্রা, ‘ভারতবিদ্বেষে’র হাওয়ায় কৌশলী তারেক, নজর রাখছে দিল্লি
    প্রতিদিন | ২১ জুন ২০২৬
  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম বিদেশ সফরে রোববার মালয়েশিয়ায় ও চিনে রওনা হলেন তারেক রহমান। বিদেশসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চলতি সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে দু’টি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। অন্যদিকে চিনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫ থেকে ১৭টি সইসাবুদ হতে পারে। বেজিং-ঢাকা আলোচনায় উঠে আসার কথা তিস্তার জল (ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প এবং সামরিক সহযোগিতা ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রতিবেশী তথা পুরনো ‘বন্ধু’ ভারতকে এড়িয়ে তারেকের চিন সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পদ্মপাড়ে ভারতবিরোধী হাওয়ায় কার্যত বশ্যতা স্বীকার করলেন খালেদাপুত্র।

    সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার চিনের ডালিয়ানে গিয়ে পরের দু’দিন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক। এরপর ২৪-২৬ জুন বেজিং সফর করবেন তিনি। ২৫ জুন চিনের প্রধানমন্ত্রী এবং সফরের শেষদিন চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা তারেকের। তবে সবার নজর ঝুলে থাকা তিস্তার ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি, যা চিনকে দিতে আগ্রহী ঢাকা, ভারতকে নয়।

    উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পরেই ভারতবিদ্বেষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক এজেন্ডা হয়ে ওঠে। নেপথ্যে জামাত ও মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে আওয়ামি-শূন্য বাংলাদেশের সব থেকে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। শপথগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংখ্যলঘুদের প্রতি অভয় বার্তা দিয়েছিলেন। তারেকের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের দূত হয়ে হাজির ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। মনে করা হচ্ছিল, ধীরে ধীরে উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। যদিও পদ্মাপাড়ের সংখ্যলঘুদের উপর অত্যাচার অব্যাহত ছিল। এবারে প্রথম বিদেশ সফরে তারেকের চিনযাত্রা ভারতবিরোধী বাংলাদেশের এজেন্ডাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা দিল।

    চিন সফর প্রসঙ্গে তারেকের বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির অবশ্য বলছেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাব। আমেরিকা যাওয়ার প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন যাব, প্রয়োজনে চিনে যাব।” তিনি যোগ করেন, “ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমরা কোথায় যাব, তা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না।” এই কথাতেও স্পষ্ট— “ভারতের সঙ্গে এই মুহূর্তে পরিবেশ অনুকূল” নয়। মনে রাখতে হবে, জামাত আর ক্ষমতায় না থাকলেও তারাই প্রধান বিরোধী দল। ফলে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, ধর্মের ঊর্ধ্বে বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী রাজনীতি সেখানে অব্যাহত রয়েছে।

    অপরপক্ষে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর উভয় দেশের সম্পর্ক আরও এক বাঁকবদল এসেছে। এই রাজ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে দিল্লির কড়া অবস্থান নতুন করে ঢাকা-দিল্লি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ‘পুশ ইন’ অশান্তে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সীমান্ত। মাঝে জামাত এর বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচি করেছে। এহেন রাজনৈতিক পরিবেশে ভারতবিদ্বেষী হাওয়ায় তারেকের চিন সফর তাৎপর্যপূর্ণ। স্বভাবতই গোটা পরিস্থিতির দিকে নজরে রাখছে দিল্লি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)