প্রশ্নফাঁসের জেরে রবিবার ফের নেওয়া হলো নিট (NEET UG) পরীক্ষা। এ বার এখনও পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তবে রি-নিটে দেখা দিল কণ্ঠী-হিজাব বিতর্ক। গুজরাটের আহমেদাবাদে এক পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রছাত্রীদের হাতে বাঁধা ‘পবিত্র সুতো’ এবং গলায় থাকা ‘কণ্ঠী’ খুলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। একই সময়ে নাকি পরীক্ষার হলে হিজাব পরতে দেওয়া হয়। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আর জে তিব্রেওয়াল পরীক্ষাকেন্দ্র চত্বর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতের ধর্মীয় সুতো ও কণ্ঠী খুলে নেওয়া হয়। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, হিজাব পরিহিত পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির পরে হিজাব-সহই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। তা হলে হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের কেন কণ্ঠী খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে?
‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়েই ভিড় জমান স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরাও। শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দু’জন হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভকারীকে আটকও করে পুলিশ।
গত ১৯ জুন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বা NTA-র জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছিল, হিজাব, পাগড়ি, হাতে বাঁধা পবিত্র সুতো বা কণ্ঠীর মতো ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক পরে পরীক্ষায় বসা যাবে। তবে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের একটু আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হবে। যাতে বিস্তারিত তল্লাশি করা যায়। তা সত্ত্বেও কেন পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন হয়রানির শিকার হতে হলো পরীক্ষার্থীদের, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।