• হুমায়ুন কবীরের দল ‘বিজেপি স্পন্সর্ড’! দাবি অধীরের
    আজকাল | ২২ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি আদতে ‘বিজেপি স্পন্সর্ড’। রবিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই দাবি করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

    শনিবার মুর্শিদাবাদে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসের’ সরকারি অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তারপরেই এই মন্তব্য করেন অধীর চৌধুরী।

    রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘হুমায়ুনকে বিজেপি রক্ষা করছে মুসলিম ভোট কাটার জন্য তা সকলেই জানে। বাবরি মসজিদ নিয়ে এত আলোচনা হয় অথচ এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রস্তাবিত ওই মসজিদের নির্মাণস্থলে কোথাও লেখা নেই ‘এই স্থানে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা হবে’।

    হিন্দু ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে বিজেপি ভোট নিচ্ছে আর মুসলিম ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে হুমায়ুন ভোট নিচ্ছে। তাই তাঁদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই।’ অধীর দাবি করেন, ‘মুর্শিদাবাদের মানুষ আগেই জানতেন এখানে বাবরি মসজিদের নামে যে দল তৈরি হয়েছে তা ‘বিজেপি স্পন্সর্ড টিম’। দিল্লিতে এখন তৃণমূলের ২০জন বিজেপি স্পন্সর্ড সাংসদও জোগাড় হয়েছে।’

    অধীর চৌধুরী দাবি করেন, ‘ভারতে বাবরি মসজিদ ভেঙে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল। আর এখন এখানে তাদের ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ রয়েছে। তাদের জমানায় কোথাও বাবরি মসজিদ হতে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। এগুলো মানুষের সঙ্গে ছলনা।’ 

    অন্যদিকে, যোগ চর্চার পিছনে বিজেপিকে একচ্ছত্র কৃতিত্ব দিতে রাজি নন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ভারতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে যোগ চলছে। এর সঙ্গে কোনও দল বা নেতার সম্পর্ক নেই। আমরা দেখছি রাজ্যের মানুষদের জন্য দিল্লি থেকে ট্রেনার আসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভাল করে যোগাভ্যাস করুক আপত্তি নেই। কিন্তু ভারতের মানুষ আগে থেকেই যোগ জানেন। গোটা বিশ্বের কাছে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের যোগ তুলে ধরেছেন। অথচ বিজেপি সরকার এমন করছে যেন তারাই ভারতে যোগ আমদানি করেছে।’ 

    আগামীকালের রাজ্য বাজেট নিয়েও মুখ খুলেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিজেপি দল নির্বাচনী ইস্তেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তার প্রতিফলন বাজেটে দেখতে চাই। তা যদি না থাকে বলব মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে।’

    ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ডিপোর্ট’ করা প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে ‘পুশব্যাক’ কিন্তু ‘ডিপোর্টেশন’ নয়। আমরা চাই, যে দেশেরই লোক হোক না কেন, সে তাঁর সম্পূর্ণ মর্যাদা নিয়েই এই দেশ থেকে চলে যাক।’

    অধীরের অভিযোগ, ‘কোনও ভারতীয় বা ভারতের কোনও রাজনৈতিক দলই চাইবে না বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের মধ্যে রেখে দিতে। কিন্তু সেটা করতে হবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে, সম্মানের সঙ্গে। অনেক ক্ষেত্রে তা না হওয়ায় অসহায় অবস্থায় পড়ছেন ওই মানুষগুলি। এর ফলে বদনাম হচ্ছে ভারতেরই।’

    হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা যে সমস্ত ভারতীয় নাবিকদের হত্যা করেছে, তারা কেউই নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁরা বাণিজ্যিক জাহাজ চালান। তাই ভারতের তরফে এই হত্যালীলার কোনও প্রতিবাদ হল না।’

    প্রধানমন্ত্রীর গার্ডেনরিচ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ‘কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে যে যুদ্ধজাহাজ প্রধানমন্ত্রী ঘটা করে উদ্বোধন করছেন, তা আগে থেকেই ওখানে ছিল। কারণ ওই বন্দরে যুদ্ধজাহাজই তৈরি হয়।’

    অধীর চৌধুরীর মন্তব্য প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হয় এবং এখনও সেই কাজ চলছে। আমার আশা ২০২৮ সালের মধ্যে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। ওই মসজিদ চত্বরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজও গড়ে তোলা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বারবার বলা হয়েছে আমার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে বিজেপির সেটিং রয়েছে। অথচ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই আমার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি কর্মসূচিতে জেলা শাসকের চিঠি পেয়ে আমি মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে একটি সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলাম। তার মানে এই নয়, আমার সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলার দুই কংগ্রেস বিধায়ক বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলাদা করে দেখা করেছেন। তার মানে কি তাদের সঙ্গেও বিজেপির যোগ রয়েছে?’

    বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মন্ডল বলেন, ‘সরকারি অনুষ্ঠানে জেলাশাসক সকল বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই গতকাল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবীর হাজির ছিলেন। সৌজন্য বজায় রেখে বিজেপি সরকার সব দলের বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানায়। তৃণমূল বিরোধীদের সম্মান না দেওয়ার যে সংস্কৃতি শুরু করেছিল আমরা সেই পথ অনুসরণ করব না।’
  • Link to this news (আজকাল)