‘দলবদলের জন্য পা উঠিয়ে আছে’, আরও সাংসদ ভাঙনের ইঙ্গিত শতাব্দীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২২ জুন ২০২৬
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক আসল তৃণমূল বলে দল থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছে। যদিও তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলছে। আর সই জাল হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করছে সিআইডি। আবার ২০ জন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার-শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। এবার বাকি ৮ জন সাংসদের মধ্যেও ভাঙন ধরতে পারে। রবিবার এমনই বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। যা নিয়ে রবিবাসরীয় বারবেলা থেকে রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
এদিকে বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের দাবি অনুযায়ী, অনেকেই আছেন যাঁরা এখন বড় নেতা সাজছেন তাঁরা অনেকেই কংগ্রেসের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে ভাঙনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার পর আটজন সাংসদ পড়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এখন তাঁদের নিয়েই তৈরি হয়েছে বিস্তর গুঞ্জন। শতাব্দী রায়ের বক্তব্য সত্যি হলে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা আরও কমতে পারে। তাঁর বন্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়-সহ ৮ জনের মধ্যে কেউ কেউ যোগাযোগ রাখছেন কংগ্রেসের সঙ্গে। আবার কেউ কেউ মন্ত্রীত্বের জন্য যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির সঙ্গে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভায় সাংসদ সংখ্যা ছিল ১৩। সেটা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ১০। কারণ তিনজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। এই আবহে শতাব্দী রায়ের এমন বক্তব্য তৃণমূলের ভাঙনের বড় ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু গেলে কারা যাবে? কংগ্রেসের হাত ধরে লাভ কী? সত্যিই কি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বাকি ৮ জনের মধ্যে কেউ কেউ? নাকি এটা তৃণমূল ভাঙার জন্য শতাব্দী রায়ের নয়া কৌশল? এইসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তাছাড়া গোটা বিষয়টি নিয়ে কী বলেছেন শতাব্দী রায়? এই ৮ জন সাংসদের মধ্যে যাঁরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, তাঁদেরকেই নিশানা করেছেন সাংসদ শতাব্দী রায়। এই ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়ে সাংসদ শতাব্দী বলেন, ‘কংগ্রেসের পিছনে কতজন ঘুরছে সেটাও জানা দরকার। যাঁরা এখন বড় বড় নেতা সাজছেন, যাঁরা আড়ালে এত নিন্দে করত, যাঁরা আড়ালে নেত্রীকে গালাগালি করত, অভিষেককে গালাগালি করত, তাঁরা হঠাৎ বলছে। আমরা তো বলছি না এই সব কথাগুলি। হ্যাঁ, যতদিন দলে ছিলাম, দলের হয় লড়াই করাটাই কাজ। এরা তো দলের সঙ্গে যখন থাকত, কত গালাগালি করত পার্লামেন্টে। সেটা তো আমরা সবাই জানি। জানি না নাকি আমরা? যাঁরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছে, তাঁদের মধ্যেও রয়েছে, যাঁরা মন্ত্রীত্ব চেয়ে দলবদল করার জন্য পা উঠিয়ে আছে। সিনিয়র সাংসদও আছে এমন।’