• রি–নিট ‘শান্তিপূর্ণ’ই, প্রশ্ন নিয়মের কড়াকড়ি ঘিরে
    এই সময় | ২২ জুন ২০২৬
  • এই সময়: প্রশ্নফাঁসের বিতর্ক পিছনে ফেলে রবিবার দেশজুড়ে ৫৫১টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে আয়োজিত হলো মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট–ইউজি)–এর রি–টেস্ট। প্রায় ১.৩৮ লক্ষ সিসিটিভির নজরদারি এবং ৫১ হাজার জ্যামারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে পরীক্ষা দিলেন ২২.৭৯ লক্ষ পড়ুয়া। দুপুর ২টো থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫.১৫–এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের অনেকেরই বক্তব্য, ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রির প্রশ্নপত্র ৩ মে–র পরীক্ষার থেকে কঠিন হয়েছে আর বায়োলজির প্রশ্নের উত্তর বের করতে সময় লেগেছে বেশি।

    এ দিন দেশজুড়ে রি–নিট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর মিলেছে। দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতে যানজটের কারণে একাধিক পড়ুয়ার পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়। তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের দাবি, দেড়টার সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে দু’টোয় পরীক্ষা শুরুর আগে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেননি অনেকেই। মধ্যপ্রদেশের ভোপালেও দু’জন পরীক্ষা দিতে পারেননি। তাঁদেরই একজনের কাকা আমির কাদরি বলেন, ‘আমার ভাইপোকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসছিলাম। পথে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়। ভাইপোকে ফার্স্ট এড দিয়ে পরীক্ষা হলে আনতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দেড়টা বেজে গেছে বলে ওকে ঢুকতেই দেওয়া হলো না!’

    বিতর্ক হয়েছে বোরখা নিয়েও। রাজস্থানের অজমেরে এক ছাত্রীর দাবি, রবিবার বোরখা পরে যাওয়ার জন্য তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, অথচ ৩ মে–র নিট পরীক্ষায় একই পোশাকে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ)–এর গাইডলাইন অনুযায়ী অবশ্য ধর্মীয় কোনও পোশাক বা চিহ্ন পরিধানে নিষেধাজ্ঞা নেই। ওই ছাত্রীর কথায়, ‘এনটিএ যদি আমাদের বোরখা পরার অনুমতি দেয়, পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিদর্শকরা বাধা দেওয়ার কে?’ পরে অবশ্য এনটিএ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে ছাত্রীটি পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। অজমেরের সার্কেল অফিসার (নর্থ) শিবম যোশী বলেন, ‘নির্দেশিকা নিয়ে একটু বিভ্রান্তি হয়েছিল, যার জেরে ভুল বোঝাবুঝি হয়। পরে অবশ্য সব মিটে গিয়েছে।’ তবে, গুজরাটে পৈতে বা অন্যান্য ধর্মীয় চিহ্ন পরিধান করে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকা নিয়ে অল্পবিস্তর কথা কাটাকাটি, অশান্তির খবর মিলেছে।

    এর মধ্যেই অজমেরের একটি কলেজের ছাত্রনেতা কৃষ্ণ সিং ঠাকুর প্রশ্নফাঁস নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কৃষ্ণের দাবি, শনিবার অর্থাৎ রি–নিটের আগের দিন তাঁর কলেজের কয়েকজন পড়ুয়ার কাছে একটি ভিডিয়ো কল আসে। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি প্রশ্নপত্রের ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, সেটা রি–নিটের প্রশ্নপত্র, যা মিলবে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে! কৃষ্ণের দাবি, তিনি নিজে সেই নম্বরে কলব্যাক করে প্রশ্ন কেনার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, তাঁকে পাঠানো হয় একটি কিউআর কোড। এই ফোনকলের রেকর্ডিং–সহ সব তথ্যপ্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন কৃষ্ণ। অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)