অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
ডিলিমিটেশন বা লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা মাথায় রেখে এখন থেকেই পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন৷ সরকারি সূত্রের দাবি, কমিশনের তরফে একটি খসড়া সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে৷ তাতে বলা হয়েছে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকে সারা দেশে বর্ধিত লোকসভা আসনে ভোটগ্রহণ করতে হলে পোলিং বুথের সংখ্যা বাড়বে ৪৬ শতাংশ৷ প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত বিপুল সংখ্যক ইভিএম-ও৷ বদল করতে হবে পুরোনো অকেজো ইভিএমও৷ এই আবহে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত ইভিএম সংগ্রহ করতে আগ্রহী নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত ১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রভিশনাল ফান্ড অ্যালটমেন্ট’-এর অনুরোধ জানাতে পারে বলেই সূত্রের দাবি৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকার দ্রুত সংসদে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করিয়ে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকেই বর্ধিত লোকসভা আসনে যে ভোটগ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তার আভাস দিচ্ছে কমিশনের এই তত্পরতা৷
বিগত দু’সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে ভাবে একের পর এক আঞ্চলিক দলে ভাঙন ধরছে এবং এনডিএ-এর সংসদীয় শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে, তা দেখার পরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও একটা বড় অংশের অনুমান মোদী সরকার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল দ্রুত সংসদে পাশ করাবে৷ এর ফলে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে হতে পারে ৮৫০৷ এই বিলের সঙ্গেই পাশ করানো হতে পারে মহিলা সংরক্ষণ বিলও, যেখানে লোকসভার পাশাপাশি দেশের সব রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নীতি চালু করা হবে৷
কেন্দ্রীয় সরকার যে ডিলিমিটেশন বিল পাশের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তা স্বীকার করেছেন এনডিএ-র শরিক টিডিপি সুপ্রিমো এন চন্দ্রবাবু নাইডু–ও৷ ডিলিমিটেশনের সঙ্গে সঙ্গে যদি মোদী সরকার ‘এক দেশ-এক ভোট’ নীতিও ২০২৯ থেকে লাগু করতে যায়, তা হলে আরও বেশি সংখ্যক ইভিএম প্রয়োজন৷ আগে থেকে প্রস্তুতি না নিলে এত বড় ঝক্কি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, এটা ভেবেই কি মাঠে নামছে নির্বাচন কমিশন?