• আইসিইউ থেকে সোজা পরীক্ষা কেন্দ্রে! ছাত্রীর স্বপ্নপূরণে পাশে শিক্ষামন্ত্রী
    এই সময় | ২২ জুন ২০২৬
  • এই সময়: মাত্র কয়েক দিন আগেই ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ভেঙে গিয়েছিল বুকের ন’টি পাঁজর। ফুসফুসেও লাগে মারাত্মক চোট। জরুরি অস্ত্রোপচার, আইসিইউ-তে চিকিৎসা, এমনকি কিছু সময় ভেন্টিলেশনেও থাকতে হয়েছিল। সেই অবস্থাতেই রবিবার নিট-ইউজি রিটেস্টে বসলেন কলকাতার ছাত্রী সৃষ্টি দুবে। তাঁর পরীক্ষায় বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার নির্দেশ দেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী গার্লস স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিট দিয়েই বিশেষ ব্যবস্থায় আইসিইউ–তেই ফিরে যান সৃষ্টি। আপাতত স্থিতিশীল আছেন তিনি।

    ১৪ জুন একটি পথদুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন সৃষ্টি। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য, দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাত লাগে। ভেঙে যায় ন’টি পাঁজর। ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শ্বাসকষ্টের সমস্যাও হয়। অবস্থার জটিলতার কারণে তাঁর আপৎকালীন ভাসকুলার সার্জারিও করতে হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি অনড় থাকেন নিট পরীক্ষায় বসার ব্যাপারে। যদিও চিকিৎসক এবং নিকটাত্মীয়রা প্রথমে সৃষ্টিকে পরীক্ষায় না বসার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সৃষ্টি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে চান বলে জানান। এর পর তাঁর পরিবার নিট পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ)-র সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষ ব্যবস্থার আবেদন জানায়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নজরে আসে।

    সৃষ্টির জেদ দেখে আসরে নামেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী। ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। সৃষ্টি যাতে শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও পরীক্ষা দিতে পারেন, তার জন্য বিশেষ আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে সারাক্ষণ মজুত রাখা হয় চিকিৎসক, প্যারামেডিক্যাল কর্মী এবং একটি অ্যাম্বুল্যান্সও। প্রয়োজন হলে যাতে চিকিৎসায় কোনও ভাবে দেরি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হয়।

    রবিবার নির্ধারিত সময়ে ওই বিশেষ ব্যবস্থার মধ্যেই পরীক্ষা দেন সৃষ্টি। তাঁর পরিবারের দাবি, প্রশাসন, এনটিএ এবং চিকিৎসকদের সহযোগিতা না পেলে এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় বসা সম্ভব হতো না। পরীক্ষা মিটে যাওয়ার পরেও শিক্ষামন্ত্রী একপ্রস্ত কথা বলেন সৃষ্টির শিক্ষক বাবা ও মায়ের সঙ্গে। বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনাদের মেয়ে একদিন ডাক্তার হবে।’

    প্রশ্নফাঁস-সহ বিভিন্ন বিতর্কের জেরে এ বছরের নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই এ দিন দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রি–টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যেই কলকাতার এই ছাত্রীর অদম্য লড়াই নজর কেড়েছে গোটা দেশের।

  • Link to this news (এই সময়)