এই সময়: কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্ট ঘুরপাক খাচ্ছে— দীপা দাশমুন্সি নাকি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হচ্ছেন। এমনকী, তিনিই প্রদেশ কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি হবেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়েছে। এই প্রচারের তীব্র সমালোচনা করে আইনানুগ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দীপা।
বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে রয়েছেন শুভঙ্কর সরকার। এআইসিসি তাঁকে সভাপতি করবে— এমন কোনও আলোচনা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের মধ্যে হয়নি বলে দীপা নিজেই রবিবার ফেসবুকে জানিয়েছেন। কংগ্রেসের ক্ষতি করতেই তাঁকে নিয়ে এই প্রচার চলছে বলে দীপার পর্যবেক্ষণ। কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য দীপা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার সম্ভবনা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের কোনও মহলে, কোনও স্তরে কোনও পর্যালোচনা হয়নি। যাঁরা আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছেন, তাঁরা কংগ্রেসের ক্ষতি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’
যদি দীপা কখনও প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন, তা হলেও তিনি বিধান ভবনের প্রথম মহিলা সভাপতি হবেন না। সত্তরের দশকের শেষের দিকে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি ছিলেন পূরবী মুখোপাধ্যায়। যদিও দীপার পোস্টের পরেও বাংলার কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদের মধ্যে বিধান ভবনের নেতৃত্ব বদল হবে কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছে। ২০২৪–এর লোকসভা ভোটের পরে অধীর চৌধুরীর জায়গায় শুভঙ্কর সরকার সভাপতি হয়েছিলেন। ২০২৯–এর লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে হাইকম্যান্ড রাজ্যে নেতৃত্বে রদবদল করতে পারে বলে এআইসিসি–র বাংলার সদস্যদের একাংশের পর্যবেক্ষণ।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে কলকাতা–সহ জেলায় জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে জোড়াফুলের নিচুতলার কর্মী–সমর্থকরা কংগ্রেসে যোগদান করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল কংগ্রেস সমর্থক অধীরকে ফের সভাপতি করার পক্ষে সওয়াল শুরু করেছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান ফের সক্রিয় হয়েছেন বলেও কংগ্রেসের একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ। তৃণমূল থেকে যাঁরা কংগ্রেসে যোগদান করতে চাইছেন, তাঁদের পাইকারি হারে নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করে ইশা খান চৌধুরী বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় কংগ্রেসের একমাত্র সাংসদ হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট অবস্থান নিতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে এআইসিসি–র সদস্য রাজ্যের পোড়খাওয়া এক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি সম্পর্কে হাইকম্যান্ড ওয়াকিবহাল। কিন্তু সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়নি।’