• ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’ পোস্টে সরব কাকলি, দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে মহুয়াও
    এই সময় | ২২ জুন ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: সংসদ থেকে বিধানসভা, সর্বত্রই কার্যত খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ বনাম ‘কালীঘাট’ শিবিরে তরজার নতুন ইস্যু হয়ে দাঁড়াল আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ–খুন।

    রবিবার এক্স–পোস্টে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার লেখেন — ‘আরজি কর কাণ্ডের প্রকৃত ধর্ষকের ফাঁসি চাই’৷ অন্য একটি পোস্টে তাঁর দাবি — ‘অভয়ার জন্যই ন্যায়বিচার চায় আরজি কর৷ অভয়ার জন্যই ন্যায়বিচার দাবি করছে বাংলা৷ অভয়ার জন্যই ন্যায়বিচার দাবি করছে ভারত৷ অভয়ার ন্যায়বিচার চাইছে মানবতা৷’ এখানেও না থেমে নিজের ছেলে, চিকিত্‍সক বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি এক্স–পোস্ট তুলে ধরে কাকলির দাবি — ‘স্পিক আপ — জাস্টিস ফর আরজি কর৷’ বর্ষীয়ান সাংসদের এ ধরনের দাবির পরে নতুন জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে। শুনানির পরে আরজি করের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়–কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাজা নিয়ে সাংসদ নতুন করে প্রশ্ন তুললেন কি না, কাকলির পোস্ট ঘিরে এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    তৃণমূল আমলে আদালতের নির্দেশেই আরজি করের ঘটনার তদন্তে নেমেছিল সিবিআই। তারাও অবশ্য কলকাতা পুলিশের তদন্তের সূত্র ধরে সঞ্জয়কেই দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরে আদালত সিবিআইকেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গড়ে ফের তদন্তে নামার নির্দেশ দেয়। সেই দল ইতিমধ্যে আরজি করে গিয়েছে, কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার–সহ নানা ক্ষেত্রের একাধিক পদাধিকারীর সঙ্গে কথাও বলেছে। এই প্রেক্ষাপটে কাকলির পোস্ট বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ বলেও মনে করা হচ্ছে।

    তৃণমূল ছাড়ার পরে গত রবিবার (১৪ জুন) ‘এনসিপিআই’ নামে একটি আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়েছেন কাকলি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়–সহ এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ, লোকসভার জনা কুড়ি সাংসদ৷ মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ‘মার্জার’ অসাংবিধানিক৷ কারণ একটি দল অন্য দলের সঙ্গে ‘মার্জ’ করতে পারে। কিন্তু দলীয় সাংসদ বা বিধায়কদের একাংশ তা পারেন না৷

    এই বিতর্কের মধ্যেই দলের দুই শিবিরে আকচাআকচি অব্যাহত। কাকলি এ দিন লোকসভার মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও নিশানা করেছেন। মহুয়া একটি এক্স–পোস্টে ‘এনসিপিআই’য়ের ফেসবুক পেজ তুলে ধরে লেখেন — ‘এনসিপিআইয়ের সঙ্গে পরিচিত হোন৷ এটি সেই নতুন দল, যা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদকে নিয়ে গঠিত৷ দলটির ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, তারা সমাজের দরিদ্র মানুষদের সহায়তা করে৷ আশা করি এই ২০ জন, যাঁরা মোটেও দরিদ্র নন, দলটির পক্ষে সেই বিশ্বাসঘাতকদেরও সহায়তা করা সম্ভব হবে৷’

    পাল্টা পোস্টে কাকলির প্রশ্ন, ‘আপনি কি আরজি করের পার্টির অংশ ছিলেন? ঠিক সেই দিনটিতে, যে দিন দরিদ্র রোগীদের জন্য বরাদ্দ ওষুধের তহবিল অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে অভয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল? আপনি তাঁর পাশে আছেন, না নেই?’

    সূত্রের খবর, মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও ভাবছেন কাকলি, শতাব্দী রায়ের মতো তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ। গত বুধবার এক্স–এ মহুয়ার দাবি, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদদের প্রত্যেক ৪০ কোটি টাকা পেয়েছেন! এর মধ্যে চার কোটি এককালীন, বাকি টাকা ৩৬ মাসে এক কোটি করে দেওয়া হবে বলেও মহুয়ার দাবি। এতেই প্রবল রুষ্ট কাকলি, শতাব্দীরা। সম্প্রতি ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মানহানির মামলা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। যদিও এ নিয়ে মহুয়ার বক্তব্য জানা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)